আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি আর ফিনিশার নন। বৃদ্ধসিংহ হারিয়ে ফেলেছেন তাঁর সেই বিখ্যাত ক্ষমতা। বয়স যে থাবা বসিয়েছে। হাঁটুর জোরও কমেছে। টানা ব্যাট করে যাওয়া আর সম্ভব নয় আগের মতো। নামতে নামতে অনেকটাই এখন নীচে ব্যাট করতে নামছেন। এখন আর আগের মতো ম্যাচ ছোট করে এনে দলকে জেতাতেও পারেন না তিনি। যতক্ষণ তিনি ক্রিজে, ততক্ষণ ম্যাচ জেতার আশা, এই আপ্তবাক্য এখন আর কেউ স্মরণ করবেন না। আইপিএলে ধোনি-মন্ত্র না চলায় অনেকেই মনে করছেন, তবে কি বাইশ গজে 'ফিনিশ' চিরকালের ফিনিশার?
তাঁর মতো এরকম একজন চ্যাম্পিয়ন ফিনিশার থাকা সত্ত্বেও চেন্নাই সুপার কিংস হেরেই চলেছে মেগা টুর্নামেন্ট। এদিনও দিল্লির কাছে থেমে গেল চেন্নাইয়ের রথ। ঘরের মাঠ চিপকে হারতে হল ২৫ রানে। চারটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়। বাকি তিনটিতেই হার চেন্নাইয়ের।
ধোনি এদিন সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন। তখনও ৯ ওভারের বেশি খেলা বাকি। জেতার জন্য দরকার প্রায় ১০৭ রান। তার আগে দিল্লি ক্যাপিটালস করেছিল ৬ উইকেটে ১৮৩ রান।
ধোনি আর বিজয় শঙ্কর তখন ক্রিজে। কোথায় উঠল ধোনি ঝড়? ধোনিকে দেখার জন্যই মাঠে যান দর্শকরা। তাঁর ব্যাট থেকে গ্যালারিতে উড়ে যাবে বল, তা দেখতেই মুখিয়ে থাকে। শনিবার মাঠে উপস্থিত ছিলেন মহাতারকার মা-বাবাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল আলোড়ন, তবে কি এদিনই অবসর নেবেন ধোনি?
মা-বাবার সামনে ধোনি স্ট্রাইক রোটেট করে বিজয় শঙ্করকেই বেশিরভাগ সময়ে স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন। কিন্তু হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া ম্যাচে কি বিজয় আনতে পারেন শঙ্কর? ধোনিকে আশ্চর্যরকম শান্ত দেখাল। মুকেশ কুমারকে যখন ছক্কা মারলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দিনের শেষে তাঁর নামের পাশে লেখা ২৬ বলে ৩০ রান। কিন্তু সেই ইনিংসে ছিল না ধোনির ছাপ।
কোথায় গেল সেই হেলিকপ্টার শট? কোথায় হারিয়ে গেল সেই সব বিশাল ছক্কা মারার ক্ষমতা? বয়স বড় বিষম বস্তু। তাঁর সহজাত ক্ষমতা হারিয়ে গিয়েছে। তাঁকেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে হচ্ছে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে বিপক্ষ দল। আর তিনি নীরব দর্শক হয়ে দেখছেন।
বিশ্বজয়ী ক্যাপ্টেনের কি এমনটাই দেখার বাকি ছিল?
