সিগারেট ছুঁয়েও দেখেন না, তাও একটুতেই হাঁপিয়ে যাচ্ছেন? রোজের এই অভ্যাসেই নীরবে ফুসফুসের ক্ষতি হচ্ছে না তো!
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩১ জুলাই ২০২৬ ১৫ : ৩৮
শেয়ার করুন
1
10
ফুসফুস আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
2
10
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, শুধু ধূমপান করলেই ফুসফুসের ক্ষতি হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন অনেক দৈনন্দিন অভ্যাস রয়েছে যা ধূমপান না করেও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
3
10
সুস্থ থাকতে বেশ কয়েকটি অভ্যাসগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। রোজের জীবনে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন, জেনে নিন-
4
10
ঘরের দূষিত বাতাসকে হালকাভাবে নেওয়াঃ অনেকেই মনে করেন, বাইরে দূষণ বেশি, তাই ঘরের বাতাস নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে রান্নার ধোঁয়া, ধূপকাঠি, মশার কয়েল, সুগন্ধি স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার বা বিভিন্ন পরিষ্কার করার রাসায়নিক থেকে নির্গত ক্ষতিকর কণা ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। ঘরে যদি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস না ঢোকে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়ে। তাই জানালা খুলে রাখুন এবং ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
5
10
শরীরচর্চা না করাঃ নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ওজন কমায় না, ফুসফুসকেও চাঙ্গা রাখে। হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটার মতো ব্যায়াম করলে ফুসফুস বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে এবং ফুসফুস দীর্ঘদিন সুস্থ থাকে। কিন্তু সারাদিন বসে কাজ করলে ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমতে পারে।
6
10
ধুলো ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকাঃ বাড়ি পরিষ্কার করার সময়, নির্মাণস্থলে কাজ করার সময় বা কারখানায় ধুলো, ধোঁয়া ও বিভিন্ন রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে ফুসফুসে প্রদাহ হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে থাকলে অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা ক্রনিক ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
7
10
কম জল পান করাঃ শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে শ্বাসনালির শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায়। ফলে ধুলো, জীবাণু বা দূষিত কণা সহজে বের হতে পারে না। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা ফুসফুসের জন্যও উপকারী।
8
10
দীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাসকষ্টকে অবহেলা করাঃ অনেকেই ভাবেন, কাশি বা শ্বাসকষ্ট কয়েকদিন পর নিজে থেকেই সেরে যাবে। কিন্তু যদি দুই-তিন সপ্তাহের বেশি কাশি থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, হাঁটলেই হাঁপিয়ে যান বা বুকে ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এগুলি অ্যাজমা, সিওপিডি, নিউমোনিয়া বা অন্য কোনও গুরুতর ফুসফুসের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
9
10
কীভাবে ফুসফুস সুস্থ রাখবেন? ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। পর্যাপ্ত জল পান করুন। ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। দূষিত পরিবেশে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন। দীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
10
10
ফুসফুসের যত্ন নেওয়া মানে শুধু ধূমপান ছাড়া নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনা। সচেতন থাকলে অনেক গুরুতর ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি সহজেই কমানো সম্ভব।