দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে ভারত। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রস্তাবে সায় দিয়ে কেন্দ্র সরকার ১০ ও ২০ মূল্যের পলিমার কারেন্সি নোটের ফিল্ড ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে।
2
10
অর্থাৎ খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক-ভিত্তিক এই নোট বাজারে চালু হতে পারে। তবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোটও একই সঙ্গে চলবে বলে জানানো হয়েছে।
3
10
বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ ইতিমধ্যেই পলিমার নোট ব্যবহার করছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম, রোমানিয়ার মতো দেশ বহু বছর ধরেই এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। এবার সেই পথেই এগোতে চলেছে ভারত।
4
10
আসলে ভারতে পলিমার নোট চালুর ভাবনা নতুন নয়। ২০০৯ সালে RBI প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই নোট চালুর প্রস্তাব দেয়। পরে ২০১২ সালে কেন্দ্র অনুমোদন দিলে ১০ মূল্যের প্রায় ১০০ কোটি পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে ছাপানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর কার্যকারিতা যাচাই করতে কোচি, মহীশূর, জয়পুর, শিমলা ও ভুবনেশ্বর—এই পাঁচটি শহরকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
5
10
তবে সেই সময় পরীক্ষায় কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা সামনে আসে। দ্রুতগতির নোট গণনার মেশিনে পলিমার নোটগুলির মধ্যে স্ট্যাটিক বিদ্যুৎ ও ঘর্ষণের কারণে নোট একে অপরের সঙ্গে লেগে যাচ্ছিল, ফলে ব্যাংকের নোট প্রসেসিংয়ে ভুলের হার বেড়ে যায়। এই কারণেই প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
6
10
এর পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পরে দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট সমীক্ষায় জানানো হয়, পলিমার নোট তৈরির সময় প্রাথমিক কার্বন নির্গমন বেশি হলেও এগুলির আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি।
7
10
পলিমার নোট চালু করতে আরও কিছু বাধাও ছিল। এই নোট তৈরির কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। পাশাপাশি নতুন নোটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ব্যাংকগুলিকে এটিএম ও নোট প্রসেসিং মেশিনে পরিবর্তন আনতে হতো, যা ব্যয়বহুল ছিল। এরপর ২০১৬ সালের নোটবন্দির পর RBI-এর অগ্রাধিকার বদলে যায় এবং পলিমার নোটের প্রকল্প দীর্ঘদিনের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।
8
10
তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের পলিমার নোটে আন্তর্জাতিক মানের হোলোগ্রাম, স্বচ্ছ নিরাপত্তা উইন্ডো, রঙ পরিবর্তনকারী নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং উন্নত অ্যান্টি-কাউন্টারফিট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া নোটের গায়ে এমন বিশেষ টেক্সচার থাকতে পারে, যাতে এটিএম বা নোট গণনার মেশিনে নোট আটকে যাওয়ার সমস্যা কমে।
9
10
পলিমার নোটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এগুলি জল, আর্দ্রতা, ময়লা ও ছিঁড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে অনেক বেশি টেকসই। ফলে সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় বহুদিন ব্যবহার করা সম্ভব। এতে জাল নোট রোধেও বাড়তি সুরক্ষা মিলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
10
10
এখন ফিল্ড ট্রায়ালের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এই নোটের ভবিষ্যৎ। যদি পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়, তাহলে আগামী দিনে ধাপে ধাপে ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়তে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন নোটের স্থায়িত্ব বাড়বে, অন্যদিকে জাল নোট প্রতিরোধ ও পরিবেশবান্ধব মুদ্রা ব্যবস্থার দিকেও বড় পদক্ষেপ নেবে দেশ।