আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিরাট-রোহিত ফিরলেন। ভারতও জিতল। 

টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি হয়েছিল ভারতের। দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের রক্তাল্পতা ধরিয়ে দিয়েছিল। ওয়ানডে সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা ফিরতেই ভোল বদলে গেল। প্রোটিয়া ব্রিগেডকে প্রথম ওয়ানডেতে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। 

ভারত ৫০ ওভারে করেছিল ৮ উইকেটে ৩৪৯ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরোধ শেষ হল ৩৩২ রানে। ১৭ রানে ম্যাচ জিতল ভারত।  

মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচ হয়ে থাকল বিরাট কোহলির নামে। তিনি একাই একশো। সেটাই প্রমাণিত হল আরও একবার। 

কোহলি এখনও বিরাট ছায়া বিস্তার করতে পারেন দেশের ক্রিকেটে। মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠে কোহলি খেললেন আরও একটা বিরাট ইনিংস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পরে ফের শতরান হাঁকালেন। এদিন প্রোটিয়া ব্রিগেডের বিরুদ্ধে বাউন্ডারি মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫২ নম্বর শতরান হয়ে গেল কোহলির। একটি ফরম্যাটে সর্বাধিক। শতরানের পরে বিরাট লাফে ফুটে বেরোচ্ছিল আগের ঔদ্ধত্য। 

তাঁর ব্যাট চালনা দেখে মনে হচ্ছিল, প্রতিদিনই তিনি খেলার মধ্যে রয়েছেন। কে বলবে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পরে এই খেলছেন তিনি। কোহলির মতো ক্রিকেটারদের জন্যই হয়তো বলা হয়, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। 

টুথ পিকের মতো ব্যাট নড়াচড়া করছিলেন। দেহের ভারসাম্য দুর্দান্ত। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুতেই ফিরে যাওয়ার পরে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে  ১৩৬ রান জুড়লেন। আপার কাটে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিয়নের শচীন তেণ্ডুলকরকে ফেরালেন। রোহিত শর্মার সঙ্গে সেই পুরো জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন। 


কোহলির গাণ্ডীব এখনও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। স্টেপ আউট করে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পরপর উইকেট পরার সময়ে তিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন। অনুজ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখে কে বলবে তিনি এখন ৩৭। 

বিরাট কোহলি এক লড়াইয়েরও নাম। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুটো ওয়ানডেতে খাতা খোলেননি তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার একমাস বাদে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে গেলেন। রাঁচিতে তৃতীয় শতরান। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ। শেষ পর্যন্ত কোহলি থামলেন ১৩৫ রানে। ১১টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিগেডকে ধাক্কা দেন হর্ষিত রানা ও অর্শদীপ সিং। ১১ রানে চলে যায় তিন-তিনটি উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের রানের পাহাড়েই চাপা পড়বে, এমনটাই ভেবে নিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু ম্যাথু বিৎজকি ও টনি ডে জর্জি ইনিংস গোছানোর কাজ শুরু করেন। কুলদীপ এলবিডব্লিউ করেন টনিকে (৩৯)। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৩৭) মারকুটে ব্যাটসম্যান। হর্ষিত রানা তাঁকে ফেরালেন। প্রোটিয়াদের রান তখন ৫ উইকেটে ১৩০। ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছে তখন দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ব্রিৎজকি ও ইয়ানসেন অন্যকিছু ভেবেছিলেন। পালটা মারের খেলা শুরু করেন তাঁরা। চার-ছক্কার ঝঞ্ঝা বইয়ে দেন তাঁরা। ভারত হঠাৎই চাপ অনুভব করতে শুরু করে। ব্যাকফুটে চলে যায়। ইয়ানসেন (৭০) ঠকে যান কুলদীপ যাদবের বলে। দু'বল পরেই ব্রিৎজকিকে (৭২) ফেরান কুলদীপ।  এদিকে রান রেট বাড়তে শুরু করে। সুব্রায়েন (১৭) কুলদীপের শিকার হন। করবিন বশ ও বার্গার লড়ছিলেন। অর্শদীপ ফেরান নান্দ্রে বার্গারকে (১৭)। ভাঙনের মুখে বশ লড়ে গেলেন। কিন্তু শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৮ রান। বশ ফিরে গেলেন ৬৭ রানে। ৩৩২ রানে থেমে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।