আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের উত্তেজনা বাড়াল ভারতের নতুন প্রোমোশনাল ভিডিও। স্টার স্পোর্টসে প্রকাশিত এই ভিডিওতে যে পাকিস্তানকেই খোঁচা দেওয়া হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি হেভিওয়েট ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ। তার আগে ভাইরাল হয়েছে বিশ্বকাপের এই প্রোমো। ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেকেই এই প্রোমোকে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ভিডিওর পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছেন।

সেখানে ভারতের সঙ্গে ‘নো-হ্যান্ডশেক’ বিতর্ককে ঘিরে খোঁচা দিয়েছিল পাকিস্তান। হালকা রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গিতে তৈরি এই ভিডিওতে দেখা গেছে জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার অভিষেক মালহানকে।

ভারতীয় জার্সি পরা সমর্থকদের সঙ্গে এক পাকিস্তানি সমর্থকের মজার কথোপকথনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে একতরফা হয়ে উঠেছে।

মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুপার ফোর ম্যাচের আগে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাননি।

তবে টুর্নামেন্ট এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেই মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানকে তিনবার হারায়। গ্রুপ পর্বে, সুপার ফোরে এবং ফাইনালে।

তবে সূর্যকুমার যে খুব একটা ভুল বলেলনি সেটা তো বলাই যায়। গত ১৫ বছরে দু’দলের মধ্যে হওয়া ৩২টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ২৪টিতে। পাকিস্তানের জয় এসেছে মূলত সেইসব ম্যাচে, যেখানে তারা প্রত্যাশার বাইরে পারফর্ম করতে পেরেছে।

এশিয়া কাপ অবশ্য মাঠের বাইরের বিতর্ক থেকেও মুক্ত ছিল না। শিরোপা জয়ের পর ভারতীয় দল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নেওয়া এই পদক্ষেপ আবারও দেখিয়েছে, দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সীমান্তবর্তী উত্তেজনা কীভাবে ক্রিকেটকেও প্রভাবিত করে।

এই পরিস্থিতিতে বহু প্রতীক্ষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজিত হচ্ছে। যদিও ভারত এই টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক, তবুও ম্যাচটি ভারতের মাটিতে হবে না বলেই জানা গিয়েছে।

হাইব্রিড মডেলের আওতায় পাকিস্তান ভারতে সফর না করায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে। পহেলগাঁওয়ের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। এমনকী, সেই সম্পর্কের রেশ পড়েছে ক্রিকেটেও।

গত বছর এশিয়া কাপে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে তিনবার। একটি ম্যাচেও আঘা সলমনের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার যাদব। গোটা পাকিস্তান দলের কারোর সঙ্গেই হাত মেলাননি ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড একটি নতুন প্রোমোশনাল ভিডিও প্রকাশ করে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি হালকা-চালের ওই ভিডিওতেই শেষ পর্যন্ত ভারতকে খোঁচা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটিতে পাকিস্তানকে এক অতিথিপরায়ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে। এমনকী, পাকিস্তান দলের অধিনায়ক সলমন আলি আঘাও সংক্ষিপ্তভাবে ভিডিওতে উপস্থিত থেকে আতিথেয়তার বার্তা দেন।

কিন্তু ভিডিওর শেষ দৃশ্যেই শুরু হয় বিতর্ক। শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, এক পর্যটক ট্যাক্সি থেকে নেমে চালকের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই চলে যাচ্ছেন। তখন গাড়ি চালক তাঁকে ডেকে এমন একটি কথা বলেন, যা অনেকের মতে ভারতের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা।

চালক বলেন, ‘হাত মেলাতে ভুলে গেলেন আপনি, হয়তো আমাদের প্রতিবেশীদের ওখানে ছিলেন।’ এই সংলাপকে ঘিরেই বিতর্ক দানা বাঁধে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকে ভারতের ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতির সূচনা হয়। সেই টুর্নামেন্টে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে তিনটি ম্যাচেই হাত মেলাননি।

পরে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপের ম্যাচেও ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানার সঙ্গে হাত মেলাননি।

এছাড়াও রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচগুলোতেও একই নীতি বজায় রাখে ভারতীয় দল। ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভারতীয় সেনা ও পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে।