আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে শেষ হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল আইসিসি।
জানা গিয়েছে, আইসিসির তরফে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে শেষ সতর্কতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতে খেলতে রাজি না হলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় কম ব়্যাঙ্কিংয়ের কোনও দলকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে জানা গেছে, আইসিসি ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না পেলে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য কোনও দলকে বিশ্বকাপে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
সম্প্রতি, বাংলাদেশে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক হয় আইসিসির প্রতিনিধি দলের। সেখানে বিসিবি একটি ব্যতিক্রমী প্রস্তাব রাখে। তারা চেয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ পরিবর্তন করতে, যাতে ভারত সফর এড়ানো যায়।
এই প্রস্তাবের একদিন পরেই আইসিসি এই আল্টিমেটাম দিয়েছে বিসিবিকে। এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশের অনিচ্ছা।
২০২৬ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
গত নভেম্বরে আইসিসির প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারতের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের দাবি, দলের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তারা ভারতর মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না।
তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, একদম শেষ পর্যায়ে এসে টুর্নামেন্টের সূচি বা ভেন্যু বদলানোর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। সূত্রের মতে, টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় আইসিসি কোনও দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তনে যেতে নারাজ এবং সরাসরি বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় মুস্তাফিজুর রহমানের ঘটনার পর থেকেই। গত ৩ জানুয়ারি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয় বিসিসিআইয়ের তরফে।
কারণ হিসেবে দেখানো হয় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা কথা। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার পর বিসিবি জরুরি বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং পরে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, ভারতে গেলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।
পাশাপাশি, বিসিবি অতীতের উদাহরণ টেনে আনে। দাবি করা হয়, পাকিস্তান যেভাবে হাইব্রিড মডেলে আইসিসি ইভেন্টে অংশ নিয়েছে, বাংলাদেশও তেমন সমাধান চায়।
পাশাপাশি, বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। প্রবল সমালোচনার মুখে বিসিবি পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে একাধিক অবমাননাকর ও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করায় খেলোয়াড় ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যে কারণে তাঁকে শেষ পর্যন্ত অপসারিত করা হয়।
