আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছরের ডিসেম্বর মাসের জন্য পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারের শর্টলিস্টেড তালিকা প্রকাশ করল আইসিসি।

বছরের শেষ ভাগে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মহিলা বিভাগে ভারতের উপস্থিতি থাকলেও, পুরুষদের শর্টলিস্ট করা তালিকায় কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার জায়গা পাননি। মহিলা বিভাগে ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৫–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ওই সিরিজে শেফালি মোট ২৪১ রান করেন, গড় ৮০.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল চোখ ধাঁধানো ১৮১.২০। টানা তিনটি অর্ধশতরান করেন তিনি।

চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সাবলীল ৭৯ রানের ইনিংস রেকর্ড ওপেনিং জুটির অংশ ছিল। যার সুবাদে ভারত মহিলা টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর গড়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট ২০২৫ সাল জুড়ে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে টানা দুটি শতরান করে তিনি ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা নেন।

তিন ম্যাচে তাঁর মোট রান ছিল ২৫৫, গড় ১২৭.৫। সেই ফর্ম তিনি টি-টোয়েন্টিতেও বজায় রেখে অপরাজিত ১১৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৫.৩৫।

পাশাপাশি, মহিলা বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। মহিলা বিভাগের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তৃতীয় নাম লরা উলভার্টেরই সতীর্থ সুনে লুস। ব্যাট ও বল হাতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন তিনি।

ওয়ানডে সিরিজে একটি শতরানসহ ২০৫ রান করেন, গড় ছিল ১০২.৫। পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি সিরিজে আরও ১১৮ রান যোগ করেন লুস, যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ফরম্যাটেই হোয়াইটওয়াশ করে।

পুরুষ বিভাগের শর্টলিস্টেড তালিকায় রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক, নিউজিল্যান্ডের জেকব ডাফি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস।

নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত ছাপ ফেলেন জাস্টিন গ্রিভস। সিরিজে তিনি মোট ২৮৩ রান করেন, গড় ছিল ৫৬.৬০। ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে তাঁর অপরাজিত ২০২ রানের অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি ম্যাচ বাঁচাতে বড় ভূমিকা নেয়।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেকব ডাফির জন্য ডিসেম্বর মাসটি ছিল স্মরণীয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে তিনি ২৩টি উইকেট নেন, গড় মাত্র ১৫.৪৩।

এই পারফরম্যান্সের জন্য তাঁকে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ক্যালেন্ডার বছরে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৮১ উইকেট নিয়ে তিনি কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলিকে ছাড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন। তালিকার শেষ নাম অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক।

অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। প্রথম তিনটি টেস্টে স্টার্ক ১৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৩৯ রান করেন।

দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স ৭৫ রানে ছয় উইকেট এবং গুরুত্বপূর্ণ ৭৭ রানের ইনিংস সিরিজের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। অ্যাডিলেড টেস্টেও তাঁর অবদান অ্যাশেজ ধরে রাখতে অস্ট্রেলিয়াকে সাহায্য করে।