আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিরিজে হার বড় ব্যাপার নয়। বড় ব্যাপার হল আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে সিরিজ হার। তাও আবার ভারত যেখানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। 

প্রতিপক্ষ যদি অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা হতো, তাহলে বিষয়টা অনেকেই হয়তো স্বাভাবিক বলে ধরে নিতেন। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের মতো লিলিপুট দলের বিরুদ্ধে টানা দুটো ম্যাচেই হুমড়ি খেয়ে পড়ল ভারত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারকে অঘটন বলা যেতেই পারে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেও যখন হারতে হল, তখন ধরে নিতেই হবে সিস্টেমে গলদ রয়েছে। আইরিশদের কাছে হতাশাজনক ফলাফল ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে যাচ্ছে। সিরিজের দুটো ম্যাচকে মাইক্রোস্কোপের নীচে ফেললে বেরিয়ে আসে হারের এই কারণগুলো-

১.) টপ অর্ডারের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়- প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ড করেছিল ১৮২ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে একসময়ে ভারত ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ৬০ রানে। তারপরে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে পথভ্রষ্ট হয় ভারতের ব্যাটিং।  
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টার্গেট ছিল আরও কম। আইরিশদের ১৫৪ রান তাড়া করতে নেমে ভারত তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে ১৯ রানে। দুই ওপেনার ডাহা ফেল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে। অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনের মতো বিস্ফোরক ব্যাটার খাতাই খুলতে পারলেন না। শুরুতেই যদি পরপর উইকেট যায়, তাহলে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ম্যাচের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। সেটাই হল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে। 

২.) বড় জুটির অভাব-টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট শুধু ধুমধারাক্কা ক্রিকেট নয়। পার্টনারশিপ গড়াটাও প্রয়োজন। সিরিজের দুটো ম্যাচেই দেখা গেল নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ল ভারতের। পার্টনারশিপ গড়তেই পারলেন না কেউ। দীর্ঘ পার্টনারশিপ না হলে রান তাড়া করতে নেমে রান তাড়া করার গতি থমকে যায়। সেটাই দেখা গেল দুটো ম্যাচে।  

৩.) আইরিশ বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং- ভারতীয় ব্যাটাররা নিজেদের প্রযোগ করতে পারেননি এটা যেমন ঠিক, তেমনই আয়ারল্যান্ডের বোলাররা শুরু থেকেই সঠিক লাইন-লেন্থ বজায় রেখে চাপ সৃষ্টি করে ভারতের তারকা ব্যাটারদের উপরে। দুটো ম্যাচেই একই ছবি। প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কাটাছেঁড়া করতে বসলে মনে হবে, অ্যাকশন রিপ্লে হচ্ছে বোঝহয়। বিশেষ করে আইরিশ বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে তোলেন। সেই চাপ সামলানো সম্ভব হয়নি শেষমেশ। 

৪.) প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার মানসিকতা-ভারত যেভাবে দুটো ম্যাচ খেলল, তাতে অনেকের মতে পিকনিক করতে এসেছে তারা। আয়ারল্যান্ডকে লিলিপুট মনে করে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে এনেছে ভারত। গৌতম গম্ভীর হয়তো আইরিশদের বিরুদ্ধে সিরিজকে ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। ফলে আয়ারল্যান্ডের কন্ডিশন, সিম মুভমেন্ট এবং বড় বাউন্ডারির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটাররা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হল। 

৫.) মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতা-দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তিলক ভার্মা ছাড়া আর কারও ব্যাটে রান নেই। শেষ ওভারে ভারতের জেতার জন্য দরকার ছিল ২০ রান। আইপিএলের মঞ্চে এই কুড়ি রান কোনও রানই নয়। বহু টিম শেষ ওভারে গিয়ে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। হর্ষিত রানা এদিন ফিনিশার হতে পারতেন। কিন্তু ফুলটস বল মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে তুলে দিলেন। সেখানেই ম্যাচ হাত থেকে ফস্কে যায় ভারতের। আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে ক্রিকেটারদের। 

৬.) চাপের মুহূর্তে ম্যাচ ফিনিশ করতে না পারা-ভারতীয় ব্যাটারদের এই রক্তাল্পতা মেনে নেওয়া কঠিন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চাপের মুহূর্তে ভারতীয় ব্যাটাররা দ্বায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু আইরিশদের বিরুদ্ধে কোথায় গেল সেই দায়িত্ববোধ? একের পর এক উইকেট হারানো। পার্টনারশিপ না গড়া, বোলিংয়েও সেই কামড় নেই। সব মিলিয়ে এই ভরাডুবি। যত দ্রুত সম্ভব এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ভারতকে।