আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক করা হয় শ্রেয়স আইয়ারকে। নতুন নেতৃত্বে নতুন শুরুর আশায় ছিল সমর্থকরা। কিন্তু সেই আশা পূরণ হল না। আয়ারল্যান্ড সফরে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ০-২ ব্যবধানে হারতে হল ভারতকে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মেঘের উপর দিয়ে হাঁটছিল ভারতীয় দল। কিন্তু ভারতীয় দল আয়ারল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে আছড়ে পড়ল বাস্তবের রুখা সুখা জমিতে।
শুধু পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তন করলে তার সুফল সবসময় মেলে না। অনেক সময়ে সেই সিদ্ধান্ত উল্টে গোটা ব্যবস্থার ছন্দই নষ্ট করে দেয়। সেটাই হল আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে। যে দল বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিচ্ছিল, তারাই হারাকিরি করে বসল আইরিশদের বিরুদ্ধে। ১৫৪ রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় দল দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে থেমে গেল ১৫৩ রানে। গৌতম গম্ভীর সিরিজ হেরে বসলেন। লজ্জায় মাথা হেঁট হওয়ার জোগাড় ভারতের।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ও বোলিং, দুই বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। সেই পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য ছিল ভারতের। কিন্তু সেখানেও একই ছবি দেখা গেল। তিলক ভার্মার (৫৫) মধ্যে কেবল তাগিদ লক্ষ্য করা গেল। ভারতের বাকি ব্যাটাররা এলেন আর গেলেন। দুই তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন খাতা না খুলেই ফিরে গেলেন। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই যদি দুই তারকা ওপেনার শূন্য রানে ফিরে যায় তাহলে চাপ বাড়েই। তবে এই ভারতের ব্যাটিং গভীরতা অতলান্তিক। কিন্তু চাপের মুখে কোনও ব্যাটারই নিজেদের প্রয়োগ করতে পারলেন না। ঈশান কিষান (১২) রান আউট হলেন, শ্রেয়স আইয়ার (১০) আইপিএলে দারুণ সফল কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি ব্যর্থ। আইপিএল আর আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য নিশ্চয় শ্রেয়স আইয়ার বুঝতে পারছেন।
তিলক ভার্মা লড়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গী কোথায়! অক্ষর প্য়াটেল (১৪), শিবম দুবে (২০), সূর্যাংশ (১) ব্যর্থ। শেষ ওভারে ভারতের জয় পারজয়ের মধ্যে দাঁড়িয়েছিলেন হর্ষিত রানা। তিনি একসময়ে জয়-পরায়জের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফুলটস বল গ্যালারিতে পাঠানোর পরিবর্তে ক্যাচ তুলে ফিরে গেলেন। তার পরে বারতের জয়ের আশা আর ছিল না। প্রিন্স যাদব ছক্কা মারলেন বটে, কিন্তু তাতে ম্যাচ জেতানো গেল না।
আগের ম্যাচে সুযোগ পেয়েও হতাশ করেছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ৪ ওভারে ৫৭ রান খরচ করেছিলেন তিনি। ভারতের বোলিং বিভাগের রক্তাল্পতা চোখে পড়েছিল। ওয়াশিংটন সুন্দরও হতাশ করেছিলেন। এই দুই তারকাকে মাঠের বাইরে রেখে প্রথম একাদশ সাজানো হয়েছিল। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় প্রিন্স যাদব এবং সূর্যাংশ শেডগের। অভিষেক ম্যাচে প্রিন্স ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২২ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। শিবম দুবে ২৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। অর্শদীপেরও শিকার ২টি।
আয়ারল্যান্ডের হয়ে লড়াই করেন হ্যারি টেক্টর (৫৩)। বেন কালিটজ করেন ৩৭ রান। তাঁদের ইনিংসের সুবাদে আয়ারল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৪ রান তোলে। আর এই রান করতে নেমেই ভারতের ব্যাটিং ভেঙে পড়ল। লজ্জায় মাথা হেঁট করে ছাড়তে হল মাঠ।















