আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিনের সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শতরান করে নিউজিল্যান্ডকে একা হাতে জিতিয়ে দিয়েছেন ড্যারেল মিচেল। কিন্তু উপমহাদেশের মাটিতে সাফল্য পেতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

এই কথাই ফাঁস করলেন কিউই ব্যাটার। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে সাফল্য পেতে তিনি নিজের দেশেই লিংকনে তৈরি বিশেষ ‘পিচ মার্কি’ প্রশিক্ষণ সুবিধার সাহায্য নিয়েছেন।

জানিয়েছেন, এই বিশেষ প্রশিক্ষণই তাঁকে সাহায্য করেছে ভারতের মাটিতে খেলতে। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় সুপারস্টার বিরাট কোহলির থেকে মাত্র এক রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা মিচেল ভারতের মাটিতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

শেষ চারটি ইনিংসে তিনি করেছেন ১৩০, ১৩৪, ৮৪ এবং অপরাজিত ১৩১ রান। ৩৪ বছর বয়সি এই ব্যাটারের সর্বশেষ অসাধারণ ইনিংসটি এসেছে বুধবার, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।

১১৭ বলে অপরাজিত ১৩১ রান করে তিনি সাত উইকেটে জেতান দলকে। তাঁর ব্যাটে ভর করে নিউজিল্যান্ড সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে। ম্যাচের পর মিচেল বলেন, ‘লিংকনের সাউথ আইল্যান্ডে ওই মার্কির ভেতরে ধুলো ধুলো উইকেটে অনেকটা সময় আমি অনুশীলন করেছি। এই ধরনের কন্ডিশনের জন্য গেম প্ল্যান বানানোর চেষ্টা করেছি। এগুলো মানুষ টিভির আলোয় দেখতে পায় না, এগুলো পর্দার আড়ালের পরিশ্রম। কিন্তু যখন হাতেনাতে এই খাটনির ফল পাওয়া যায়, তখন ভালই লাগে।’

লিংকনের এই পিচ মার্কি সুবিধা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের বিদেশি কন্ডিশন অনুকরণ করে সারা বছর অনুশীলনের সুযোগ দেয়, এমনকি শীতকালেও।

মিচেলের মতে, স্লো এবং টার্নিং ট্র্যাকে নিজের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই অনুশীলনই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডার হিসেবে আমরা এসব উইকেটে খুব একটা খেলার সুযোগ পাই না। আমরা বাউন্সি, ঘাসে ঢাকা পিচে খেলে বড় হয়েছি। তাই মানিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজতে হয়। এখানে আমি নিজের ব্যাটিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছন্দ, পা ব্যবহার করা, সুইপ খেলা, ক্রিজ কাজে লাগানো, বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করা। কয়েক বছর ধরে এটা একটা প্রক্রিয়া যেটা আমি রপ্ত করছি।’

এশিয়ার মাটিতে মিচেলের পরিসংখ্যানই তাঁর ‘সাবকন্টিনেন্ট স্পেশালিস্ট’ খ্যাতি প্রমাণ করে। এশিয়ায় তিনি ওয়ানডেতে ৫৬.০৩ গড়ে করেছেন ১,৪৫৭ রান, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি শতরান এবং ছ'টি অর্ধশতরান। 

শুধু ভারতেই ১৫ ম্যাচে ৮০১ রান করেছেন তিনি, গড় ৬৬.৭৫, তিনটি শতরান ও তিনটি অর্ধশতরানসহ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারতের হয়ে কেএল রাহুলের অপরাজিত ১১২ রানেরও প্রশংসা করেন মিচেল।

তিনি বলেন, ‘ইনিংসটা ও খুব ভালোভাবে ব্যালেন্স করেছে। মাঝের দিকে ভারত কয়েকটা উইকেট হারিয়েছিল, তখন চাপ সামলে যেভাবে ইনিংসটা শেষ করেছে, সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

রান তাড়া করার সময় মিচেল ও উইল ইয়ংয়ের মধ্যে ১৬২ রানের দ্বিতীয় উইকেটের জুটিই নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। মিচেল যোগ করেন, ‘ইয়ংয়ের সঙ্গে ব্যাট করতে আমি খুব উপভোগ করি। নতুন বলে ও চাপ সামলেছে, স্ট্রাইক রোটেট করছিল, মাঝে মাঝে বাউন্ডারিও মেরেছে। অসাধারণ খেলেছে।’

ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদব ৮২ রান খরচ করলেও ভারতের স্পিন আক্রমণের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন মিচেল। তিনি বলেন, ‘কুলদীপ এবং জাদেজা বিশ্বমানের বোলার। এর আগেও ওরা একাধিক উইকেট নিয়েছে, ভবিষ্যতেও করবে।’

নিরলস প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জোরে ড্যারেল মিচেল এখন উপমহাদেশের কন্ডিশনে অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিদেশি ব্যাটার এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।