আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় বল হাতে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। ক্রিকেটজীবন দীর্ঘস্থায়ী না হলেও শচীন, সৌরভদের জমানায় প্রতিশ্রুতিমান বোলারদের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু বেশিদিন বাইশ গজে লড়াই করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচক হিসেবে ফেরেন। বর্তমানে অন্য একটি লড়াইয়ের সঙ্গে লড়ছেন। বিষণ্নতায় ভুগছেন সলিল আঙ্কোলা। বর্তমানে পুনের একটি রিহ্যাব সেন্টারে রয়েছেন। সলিল আঙ্কোলার স্ত্রী রিয়া আঙ্কোলা এই খবর জানান। জানান, মাতৃবিয়োগ মেনে নিতে পারেননি প্রাক্তন ক্রিকেটার। সেই জায়গা থেকেই বিষণ্নতায় ডুব।

রিয়া আঙ্কোলা বলেন, 'সলিল বিষণ্নতায় ভুগছিল। তাই কয়েক সপ্তাহ আগে পুনের কাছে একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়। ২০২৪ অক্টোবরে মাকে হারানোর পর থেকে বিষণ্নতা বাড়ে। মাতৃবিয়োগ মেনে নিতে পারেনি। বারবার ভেঙে পড়ে। অসুস্থ হয়। একটা ভাল জায়গা এবং পরিবেশের মধ্যে ওর চিকিৎসা চলছে।' 

বিষণ্নতা কাটিয়ে আগের তুলনায় অনেক ভাল আছেন, জানান প্রাক্তন পেসারের স্ত্রী। রিয়া বলেন, 'পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে, একটা ব্রেক নেওয়ার জন্য তৈরি হওয়ায় আমরা পরিবার হিসেবে খুশি। ও আগের থেকে অনেক ভাল আছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে। খুব শীঘ্রই ওর প্রথম ভালবাসা ক্রিকেটে ফিরবে। ও বরাবরই লড়াকু। সবসময় আগের থেকে শক্তিশালী হয়ে ফেরে। আমরা, ওর পরিবার, বন্ধুরা সর্বত্র ওর পাশে আছে। একটা ছোট বিরতি নিয়ে আবার কাজে ফেরার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্রিকেট পরিবার ওকে সমর্থন জানিয়েছে। ওর পাশে আছে।'

বিষণ্নতার ইতিহাস তাঁর ক্ষেত্রে প্রথম নয়। কয়েক বছর আগে মদে আসক্ত হয়ে পড়েন আঙ্কোলা। সেবারও রিহ্যাবে পাঠাতে হয় তাঁকে। কিন্তু জানা গিয়েছে, এবার আগের ঘটনার সঙ্গে কোনও মিল নেই। অনেক আগেই সুরা পান করা ছেড়ে দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ জুন বোর্ডের জাতীয় নির্বাচক নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেই পোস্টে ছিলেন। তার আগে ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মুম্বইয়ের নির্বাচক ছিলেন। মাঝেমধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে তাঁকে বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় দেখা যায়। ১৯৮৯ সালে ভারতের হয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটিমাত্র টেস্ট খেলেন আঙ্কোলা। সেই ম্যাচেই অভিষেক হয় শচীন তেন্ডুলকার এবং ওয়াকার ইউনিসের। সেই টেস্টে জোড়া উইকেট নেন। ভারতের হয়ে ২০টি একদিনের ম্যাচ খেলেন। সংগ্রহ ১৩ উইকেট। নয়ের দশকে মুম্বইয়ের অন্যতম ভরসাযোগ্য পেসার। ৫৪ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৮১ উইকেট নেন। ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে অবসর নেন। থুতনিতে টিউমার হওয়ায় ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য হন। তারপর অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয় সুদৃশ্য ক্রিকেটারের। একাধিক সিনেমা এবং টিভি সিরিয়ালে তাঁকে দেখা যায়। আশা করা যাচ্ছে, বিষণ্নতা কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন শচীনের এককালীন সতীর্থ।