আজকাল ওয়েবডেস্ক: বল তাঁর পায়ে পড়লেই কথা বলতে শুরু করত। তাঁর কথা উচ্চারিত হলে এখনও নস্ট্যালজিক হয়ে ওঠে কলকাতা ময়দান। সেই মোহন সিং বৃহস্পতিবার প্রয়াত হলেন। বয়স হয়েছিল ৭৯। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন মোহন সিং।
মোহন সিংকে যাঁরা খেলতে দেখেছেন, তাঁদের স্মৃতিতে এখনও সজীব তাঁর ফুটবল, তাঁর গল্প।
বিএনআর থেকে ১৯৭২ সালে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন মোহন সিং। সেই মরশুমে লাল-হলুদ অপরাজিত হিসেবে পাঁচটি খেতাব জিতে নিয়েছিল।
এর মধ্যে ছিল ত্রিমুকুট জয়ও। কলকাতা ভেটারেন্স ক্লাবের বিচারে মোহন সিং সেই মরশুমে প্লেয়ার অফ দ্য সিজন হয়েছিলেন।
ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহন সিং গিয়েছিলেন মোহনবাগানে। সেখান থেকে আবার ১৯৭৫ সালে ফেরেন ইস্টবেঙ্গলে। সেই বছর ইস্টবেঙ্গল টানা ষষ্ঠবার কলকাতা লিগ জেতে।
পঁচাত্তরের শিল্ড ফাইনালে লাল-হলুদের কাছে ৫-০ গোলে হার মানে মোহনবাগান। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কোচ পিকে ব্যানার্জি খেলাননি মোহন সিংকে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দুই মরশুমে মোহন সিং ৮টি ট্রফি জিতেছিলেন। খেলেছিলেন মহমেডান স্পোর্টিংয়েও। জাতীয় দলের জার্সি পরেও খেলেছিলেন তিনি।
মোহন সিংয়ের শিকড় ছিল পাঞ্জাবে। জন্ম ১৯৪৭ সালে। ক্রিকেটেও ছিলেন পারদর্শী। ফুটবল তাঁর ঠিকানা না হলে হয়তো ক্রিকেটার হয়ে যেতেন।
আজ মোহন সিং নেই। কিন্তু তাঁর পায়ের শব্দ, তাঁর পাস, তাঁর স্কিল, সবই ময়দানের স্মৃতিতে রয়ে গিয়েছে। মাঠ বদলায়, প্রজন্ম বদলায় কিন্তু কিছু নাম থেকে যায় চিরকাল। মোহন সিং তেমনই এক নাম।















