আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অবনতি ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার চেতেশ্বর পূজারা।
তিনি বিসিসিআই-কে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
ভারত সাদা বলের ক্রিকেটে আধিপত্য বজায় রাখলেও টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও একই ফলাফল হয়।
অন্যদিকে, সাদা বলের ক্রিকেটে ভারত দারুণ সফল। শেষ তিনটি আইসিসি ট্রফির মধ্যে প্রতিটিতেই শিরোপা জিতেছে এবং শেষ চারটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলেছে।
পূজারা বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ২৫–৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি আলাদা রেড-বল পুল তৈরি করতে হবে।
তাঁর মতে, ভবিষ্যতে কিছু খেলোয়াড় মাল্টি-ফরম্যাটে খেললেও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা করে খেলোয়াড় তৈরি করা জরুরি।
তিনি বলেন, আইপিএল চলাকালীন সময়ে যেসব খেলোয়াড় টুর্নামেন্টে সুযোগ পান না, তাদের ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা উচিত।
ঘরোয়া পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য গড়ে তুলতে হবে।
পূজারা মনে করেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট আরও স্পষ্টভাবে ভাগ হয়ে যেতে পারে। কিছু খেলোয়াড় শুধু সাদা বলের ক্রিকেট খেলবেন, আবার কেউ শুধু টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেবেন। এ
তে কোনও সমস্যা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের সব ফরম্যাটে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, যাঁরা টেস্ট ক্রিকেটে সফল, যেমন ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলউড, কাগিসো রাবাদা, তাঁরা আইপিএলেও সফল কারণ তাদের লাইন ও লেন্থের দক্ষতা টেস্ট ক্রিকেট থেকেই তৈরি হয়েছে।
আইপিএল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেলেই শুধু সেটিকে লক্ষ্য বানানো ঠিক নয়। বরং ঘরোয়া ও টেস্ট ক্রিকেটে ভিত্তি শক্ত করাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার চাবিকাঠি।
পুজারা বলেছেন, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দুই ভাগে বিভক্ত হতে পারে, তবে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে হলে আলাদা পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।















