আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরিয়ারে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নিজের দলকে নকআউট পর্বে পৌঁছে দেওয়ার পর এবার হালান্ড মুখ খুললেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে।

রবিবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আবারও ইতিহাস তৈরি করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এদিন প্রথম একাদশে না থেকেও বদলি হিসেবে নেমে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় মাঠে নামেন মেসি। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক থেকে জর্ডনের গোলরক্ষক আবুলাইলাকে পরাস্ত করেন তিনি। এর সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা হল ১৯, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মেসির এই গোলের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হালান্ড। নরওয়ের এই তারকা মেনে নিয়েছেন, মেসি যতক্ষণ বিশ্বকাপে রয়েছেন, ততক্ষণ গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াই তাঁর জন্য কঠিন।

হালান্ডের বক্তব্য, মেসি যদি টুর্নামেন্টে খেলেন, তাহলে তাঁর নিজের গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা কমে যায়। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকার প্রতি তাঁর এই স্বীকৃতি ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন হালান্ড। মাত্র দু’ম্যাচে চারটি গোল করে নজর কেড়েছেন তিনি। নরওয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।

ফুটবল ইতিহাসে আরও একটি অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের জন্ম দিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছরের যুবক এখন আর রেকর্ডের পিছনে ছোটেন না। বরং রেকর্ড তাঁর পিছনে ছোটে। পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করলেন।

আর তাঁর গোলের দিনে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে হারাল জর্ডনকে। গ্রুপের তিনটি ম্যাচে তিনটিতেই জয়ী নীল-সাদা জার্সিধারীরা। জর্ডনের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করলেন এলএম ১০।

বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জাঁ ফতেঁ ও ব্রাজিলের জর্জনিহোর।

এতদিন তাঁদের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে ছিলেন মেসি। জর্ডনের বিরুদ্ধে গোল করে সবাইকে পিছনে ফেলে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড গড়া মেসি আরও একটি অনন্য ইতিহাস রচনা করলেন। বিশ্বকাপের টানা ৭ ম্যাচে গোল, যে কীর্তি এর আগে স্পর্শ করতে পারেননি বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার।

চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোলের পর এদিন এক গোল। মেসির কক্ষপথে পা রাখা যে সহজ কথা নয়! মেসিকে দেখে বলাই যায়, এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর।