আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে ইরানের। ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পৌঁছনোর সুযোগ ছিল তাদের সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সঙ্গ দিল না মধ্যপ্রাচ্যের এই দলকে।
রবিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর ইরানের আশা ছিল একমাত্র অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া ম্যাচ। যে কোনও এক দলের জয় প্রয়োজন ছিল ইরানের নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু সেটা আর হল না।
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রালফ র্যাগনিকের অস্ট্রিয়া গোল করে সমতা ফেরায়। শেষ কিকেই এক পয়েন্ট নিশ্চিত করে অস্ট্রিয়া জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ। আর সেখানেই শেষ হয়ে যায় ইরানের স্বপ্ন। তবে মাঠের ফলাফল ইরানকে থামাতে পারেনি সম্মানের জায়গায়।
নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন বার্তা রেখে যান ইরানের ফুটবলাররা। সেই বার্তায় উঠে এসেছে গর্ব, সম্মান এবং লড়াইয়ের কথা। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আমরা ইরান থেকে এসেছি, এমন এক দেশ থেকে, যেখানে হাজার হাজার বছর ধরে জয়ের চেয়েও সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
ইরানের ফুটবলাররা আরও লিখে যান, ‘আমাদের কাছে ফুটবল শুধুমাত্র ফলাফলের প্রতিযোগিতা নয়, এটি চরিত্রের পরীক্ষা। অনেকভাবে পয়েন্ট অর্জন করা যায়, কিন্তু সম্মান অর্জন করা যায় না। কোনও দল হয়তো একটি গ্রুপ থেকে পরের ধাপে যেতে পারে, কিন্তু ন্যায়, সততা এবং সম্মানের মাধ্যমেই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায়।’
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ইরানের এই বার্তা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইরানের গোলটা হয়েই গিয়েছিল। ইরানের রিজার্ভ বেঞ্চ আনন্দে আত্মহারা। যেন এক মুহূর্তেই ভাগ্য বদলে গিয়েছে।
তারপর ভিএআর। আনন্দ থেকে এক মুহূর্তে হতাশা। ধরা পড়ল অফসাইড। গোল বাতিল। ধারাভাষ্যকাররা বললেন, ইরান ডিনায়েড। খেলার শেষ বাঁশির পরে ইরান ১ মিশর ১।
মিশরের কোচ এসে ইরানের কোচকে অভিনন্দন জানালেন। কিন্তু ইরান কোচের মুখ থমথমে। কারণ তিনি জানেন, এখন আর সবকিছু নিজের হাতে নেই। রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা। আরও কত পারমুটেশন-কম্বিনেশন।
কত হিসেব-নিকেশ, কত অন্য ম্যাচের ফল, সব মিলিয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপে ইরানের ভাগ্য। ম্যাচ শেষ হতেই আর রাখঢাক না রেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ইরানের অধিনায়ক মেহদি তারেমি।
বিশ্বকাপে নানা ভোগান্তির জন্য সরাসরি ফিফা ও অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন তিনি। মেহেদি তারেমির দাবি, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ইরানের সঙ্গে ‘অন্যায়’ করা হয়েছে।
মেহেদি তারেমি বলেন, ‘এটা একটি জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, এ তো কেবল শুরু। অথচ গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পথে, আর আমাদের লজিস্টিক দলের কোনও সদস্যই এখানে নেই। কারণ তারা ভিসা পাননি।’
তিজুয়ানা থেকে বারবার যাতায়াতের বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইরান অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা তিজুয়ানার মানুষকে ভালবাসি, মেক্সিকোকেও ভালবাসি। তাঁরা খুবই আন্তরিক। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি বড় টুর্নামেন্টে এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন।’















