আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্যালারিতে সুন্দরীদের ভিড়, আর মাঠজুড়ে স্পেনের পাসিং ফুটবলের ঝলকানি। চারদিকে যেন উৎসবের আবহ। বিশ্বকাপে স্পেনের ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন স্প্যানিশ তারকা অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজ, বার্সেলোনার কিংবদন্তি মহিলা ফুটবলার আলেক্সিয়া পুতেয়াসও। রূপের মুগ্ধতা গ্যালারিতে। ছিলেন স্পেনের প্রাক্তন তারকা দাভিদ ভিয়া,পুওল-ও। গ্যালারিতে তারকাদের মিলনমেলা। আর মাঠে স্পেনের ফুটবলের অপূর্ব প্রদর্শনী।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল স্পেন। অস্ট্রিয়াকে ০-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়ে অনায়াসেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন লামিন ইয়ামালরা। জোড়া গোল করেন ওইয়ারসাবাল। 

পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং রক্ষণ, সব বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়েছে স্প্যানিশরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণভাগে সক্রিয় ছিল। তবে বলের দখল, পাসের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ছিল স্পেন। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত কোনও দল গোলের দেখা না পেলেও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে স্প্যানিশরা।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের সমর্থকেরা উল্লাসে মাতলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। কর্নার থেকে আসা বলে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। কিন্তু গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজান রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নার থেকে বল আসার সময় স্পেনের এক খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারকে ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়। তবে রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কেরও জন্ম দেয়।

বাতিল হওয়া গোল স্পেনের আক্রমণের ধার কমাতে পারেনি। বরং আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে তারা। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় স্পেন। বাঁ প্রান্ত থেকে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো নিখুঁত পাস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান মিকেল ওইয়ারসাবাল। চলতি বিশ্বকাপে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের তৃতীয় গোল।

গোলের পরও আক্রমণের গতি ধরে রাখে স্পেন। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের দুর্দান্ত সেভ এবং একবার গোলপোস্ট স্পেনকে ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি। ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্প্যানিশরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। মাঝমাঠের দখল ধরে রেখে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। অন্যদিকে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি অস্ট্রিয়া।

ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ব্যক্তিগত এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। টানা ৪৮৬ মিনিট কোনও গোল হজম না করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলরক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘতম সময় গোল না খাওয়ার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন। এই কীর্তিতে তিনি পেছনে ফেলেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন গোলরক্ষক সের্জিও রোমেরোকে।

এরপর ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। আলেক্স বায়েনার দারুণ এক ক্রসে বক্সের ভিতরে উঁচুতে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো।
 শ্লাগারের কোনও সুযোগ ছিল না সেই হেড বাঁচানোর। 

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠে মার্ক কুকুরেয়া–মিকেল ওইয়ারসাবাল জুটি। বক্সের ভিতরে নিখুঁত পাস বাড়ান কুকুরেয়া। সেখানে সম্পূর্ণ আনমার্ক অবস্থায় থাকা ওইয়ারসাবাল সহজেই বল জালে পাঠিয়ে স্পেনের তৃতীয় গোলটি করেন। 

চলতি বিশ্বকাপে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের চতুর্থ গোল, আর কুকুরেয়ার দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। স্পেন দাঁড়াতেই দিল না অস্ট্রিয়াকে।