আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা বরাবরই বিশ্বমানের শক্তি। তবু বড় মঞ্চে বারবার হোঁচট খাওয়ার কারণে ‘চোকার্স’ তকমাটা এখনও পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে পারেনি তারা।
ফুটবলের ময়দানে অবস্থাটা আরও কঠিন। ক্রিকেটে যে সাফল্য ও ধারাবাহিকতা প্রোটিয়ারা দেখিয়েছে, ফুটবলে তার ধারেকাছেও এখনও পৌঁছতে পারেনি ‘বাফানা বাফানা’রা। বলা যায় বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের পরিচয় খুঁজছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০১০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ। সেবারের উদ্বোধনী ম্যাচের ফলাফল ছিল ১-১।
১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা হলো দুই দলের। তবে এবার গল্পটা একেবারেই আলাদা। প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকো হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পাড়ার ফুটবলেও যে ভুল হয় না, বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই ভুল করে বসল দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার ও ডিফেন্ডার। প্রথম গোল হজম শিক্ষানবিশের ভুলে। তার পরে খেলা যত গড়াল মেক্সিকো ততই ম্যাচের উপরে নিজেদের থাবা বসাল। শেষমেশ মেক্সিকো ২-০ গোলে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
রেফারির শুরুর বাঁশির পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় মেক্সিকো। শুরুতেই গোল হজম করতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকা। জিমিনেজের শট কোনওরকমে বাঁচিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস। তখনও গ্যালারিতে ঠিক করেই বসে উঠতে পারেননি দর্শকরা।
খেলার ৯ মিনিটে জুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে এগিয়ে দেন মেক্সিকোকে। গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস বলটি দিয়েছিলেন সিথোলেকে। তিনি বলটি ধরতে গিয়ে বিপন্ন করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বল কিনিয়োনেসের কাছে এলে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। গোলকিপারই বা ওভাবে বল বাড়িয়ে দলকে বিপন্ন করবেন কেন? আর ডিফেন্ডার খুব সহজেই বলের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারাবেন কেন?
প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও বিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। গোলরক্ষক উইলিয়ামসকে আরও একটি সেভ করতে হয়। মেক্সিকান আক্রমণভাগ তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ভাগ্য সহায় হলে মেক্সিকো আরও গোল করে ফেলতেই পারত।
ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা। মেক্সিকোর ৯ নম্বর খেলোয়াড় জিমিনেজকে বিপজ্জনক ট্যাকল করার অপরাধে তাঁকে সতর্ক করেন রেফারি।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখেন কিনিয়োনেস। তাঁর দূরপাল্লার একটি শক্তিশালী শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২০ মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় গোল করে ফেলতে পারত মেক্সিকো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় মেক্সিকো। ৪০তম মিনিটে জিমিনেজের হেড দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন উইলিয়ামস। এক মিনিট পর কিনিয়োনেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ব্রায়ান গুতিয়েরেসও গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।
প্রথমার্ধ শেষে পরিসংখ্যানই বলে দেয় মেক্সিকোর আধিপত্যের গল্প। গোলের ব্যবধান মাত্র ১-০ হলেও মেক্সিকো যেখানে ১০টি শট নিয়েছে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার শট সংখ্যা ছিল মাত্র ২টি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরও মেক্সিকোর আক্রমণের গতি কমেনি। কিনিয়োনেস দূর থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করার চেষ্টা করলেও উইলিয়ামস সময়মতো বলটি ধরে ফেলেন।
এরপর ম্যাচের ৫০-তম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সিথোলে। দশ জয় হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এগারোর বিরুদ্ধে দশ সবসময়ে অসম লড়াই।
এদিকে ৬৬ মিনিটে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা ইতিহাস গড়েন। তার ঠিক এক মিনিট পরেই জিমিনেজ ২–০ গোলে এগিয়ে দেন মেক্সিকোকে। খেলার ৮৪ মিনিটে থেম্বা লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকা ন'জনে নেমে যায়। শেষের দিকে মেক্সিকোর মন্টেজও লাল কার্ড দেখে বসেন। উদ্বোধনী ম্যাচেই দু'দলের তিন জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকো শুরুটা করল সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে কেবল প্রশ্ন আর প্রশ্ন।















