আজকাল ওয়েবডেস্ক: মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার খামখেয়ালি পারফরম্যান্স ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন চরম শোরগোল। নির্ধারিত সময় পার করে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে পৌঁছানোর পর প্রথম শট নিতে পারে ২০২২-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা লিওনেল স্কালোনির দলের ক্ষেত্রে একেবারেই অভাবনীয়। ডিফেন্সে লড়াই দেখা গেলেও পুরো ম্যাচে তারা ছিল প্রায় নিষ্প্রভ, আর এর নেপথ্যে ম্যাচের ঠিক আগেই ঘটা কোনও  রহস্যময় ঘটনার ইঙ্গিত পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের একটি টানেল ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ড্রেসিংরুম থেকে বেরোনোর সময় লিওনেল মেসিকে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, "চল ছেলেরা, যা ঘটেছে সব ভুলে যাও, যেন কিছুই হয়নি।" মেসির এই শান্ত কিন্তু ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তার পেছনে ফুটে উঠেছে সতীর্থদের চরম মানসিক অশান্তি। ভিডিওতে দেখা গেছে, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও এনজো ফার্নান্দেস মারাত্মক মানসিক চাপে বিহ্বল হয়ে রয়েছেন। পরবর্তীতে ম্যাচে মার্তিনেস প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এবং এনজো শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অগণিত অনুসারী থাকা কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছিল, খেলা শুরুর ঠিক আগে আচমকা অ্যান্টি-ডোপিং পরীক্ষা করার কারণেই খেলোয়াড়েরা বিভ্রান্ত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই তত্ত্ব সামনে আসতেই কমিউনিটি নোটের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে ফিফার ডোপিং পরীক্ষা সবসময় খেলা শেষের পরেই হয়ে থাকে, ম্যাচের ঠিক আগে নয়।

হাফটাইমের সময় টানেলে খেলোয়াড়দের নিজেদের চাঙ্গা করার মরিয়া চেষ্টা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেখানে ক্যাপ্টেন মেসিকে বলতে শোনা যায়, "চল ছেলেরা, আত্মবিশ্বাস রাখো। আমাদের তো সেটা সবসময়ই ছিল, আজ থাকবে না কেন?" পাশাপাশি গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেসও চিৎকার করে সতীর্থদের পিছিয়ে না এসে সাহসের সঙ্গে সামনে এগোনোর বার্তা দেন।

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচ শেষের অপ্রীতিকর ঘটনাও আর্জেন্টাইন শিবিরের মানসিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। ম্যাচ শেষে গাবি ও এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে লিওনাক্রো পারেদেসের হাতাহাতি বাঁধলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যেখানে কোচিং স্টাফদেরও জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নীল-সাদা ভক্তদের মন ছুঁয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় মেসি জানান যে, হারের এই ক্ষত শুকোতে অনেকটাই সময় লাগবে। তবুও হার মেনে নিয়ে দুইবার পরপর ফাইনালে ওঠার যৌথ সাফল্যকে মনে রাখার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে জয়ী দল স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে ও দেশবাসীর অকৃত্রিম সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান এই ফুটবল কিংবদন্তি।