আজকাল ওয়েবডেস্ক: লিওনেল মেসিকে মাঠে দেখলে অনেক সময় মনে হয়, ফুটবল খেলাটা তাঁর কাছে খুবই সহজ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও তাঁকে অনেক সময় ধীরে হাঁটতে দেখা যায়, যেন তিনি নিজের মতো করে খেলার মুহূর্তের অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এই ধীর গতির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে তাঁর অসাধারণ কৌশল।
মিশরের বিপক্ষে ৩–২ গোলে জয়ের পর আবেগে কেঁদে ফেলেন মেসি। পুরো ম্যাচ খেললেও তাঁকে শারীরিকভাবে ক্লান্ত মনে হয়নি। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর খেলার ধরনেও দেখা গেছে একই ছবি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাঠে তাঁর প্রায় ৬৩ শতাংশ সময় কেটেছে হাঁটতে হাঁটতে। অন্য আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের তুলনায় এই হার অনেক বেশি।
এ ছাড়া ম্যাচের প্রায় ২৫ শতাংশ সময় তিনি দাঁড়িয়ে কাটিয়েছেন। আর জগিং করেছেন মাত্র ৮.৬ শতাংশ সময়, যেখানে টুর্নামেন্টের গড় প্রায় ২৩ শতাংশ। দ্রুতগতির দৌড় বা স্প্রিন্টেও তাঁকে খুব বেশি দেখা যায়নি।
তবে এটি শুধু বয়সের কারণে নয়। ৩৯ বছর বয়সী মেসি দীর্ঘদিন ধরেই এমনভাবে খেলেন। ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে তাঁকে দৌড়ানোর অনুশীলন করানো হলে তিনি মাঝে মাঝে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতেন।
মেসির এই ধীর চলাফেরার পেছনে রয়েছে নিখুঁত পরিকল্পনা। তিনি জানেন কখন কোথায় থাকতে হবে এবং কখন গতি বাড়াতে হবে। আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি এখনও দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডের মাঝের ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ায় তিনি বিশেষ দক্ষ।
মেসি নিজের জন্য জায়গা তৈরি করতে সবসময় দৌড়ান না। বরং সতীর্থদের দৌড় ও অবস্থান পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেন। সতীর্থরা একদিকে চাপ তৈরি করলে মেসি অনেক সময় অন্যদিকে সামান্য এগিয়ে গিয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন। এরপর সেই জায়গা থেকেই তিনি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন।
এই কৌশল সফল করতে দরকার অসাধারণ খেলা বোঝার ক্ষমতা এবং সতীর্থদের সহযোগিতা। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা জানেন, তাঁদের বেশি দৌড়াতে হবে, যাতে মেসি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের জন্য শক্তি ধরে রাখতে পারেন।
মেসির খেলার ধরন তাই শুধু দৌড়ের ওপর নির্ভর করে না। তাঁর আসল শক্তি হলো সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকা এবং একটি মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়া।















