আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেউ তাঁদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেনি। কেউ কেউ বলেছিল, এক শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তারা খেলতে এসেছে বিশ্বকাপ। সেই কেপ ভার্দেই এবারের বিশ্বকাপের বড় চমক। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখে যাচ্ছে রূপকথা। আজ ভোজিনহা যখন বল বাঁচাচ্ছেন, গ্যালারিতে তাঁর মা আনন্দে নাচছেন। রেফারির শেষ বাঁশির পরে কংক্রিটের গ্যালারি ফিরে পেয়েছে প্রাণ। কেপ ভার্দে রাউন্ড অফ ৩২-তে। তাঁদের সামনে মেসিরা।
মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। তারাই ফুটবল মাঠে লিখে দিল ইতিহাস।
ফুটবলের মহাশক্তিধর দেশের সামনে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে সাফল্য শুধু জনসংখ্যা, অর্থ কিংবা তারকাখ্যাতির ওপর নির্ভর করে হয় না। সাহস, ঐক্য আর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতাই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।
গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিনটি ড্র করে নকআউটের ছাড়পত্র জোগাড় করে নেয়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ড্রেসিংরুমে শুরু হয় উচ্ছ্বাস, হিউস্টনে নেমে আসে গোটা কেপ ভার্দে।
এই রূপকথার নায়ক ৪০ বছরের গোলরক্ষক ভোজিনহা। চল্লিশে নাকি চালশে। যখন বেশিরভাগ ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন এই বয়সে, তখন তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের জীবনের সেরা ফুটবল খেলছেন।
স্পেনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সাতটি সেভ, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ, সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন কেপ ভার্দের পাঁচিল। দ্য লাস্ট ওয়াল।
ম্যাচ শেষে ভোজিনহার একটি কথাই যেন পুরো দলের পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ''আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু আমাদের হৃদয় বিশাল। আমরা লড়াই করতে জানি।''
এবার সেই ছোট্ট দেশটির সামনে লিও মেসির আর্জেন্টিনা। ফলাফল যাই হোক না কেন, কেপ ভার্দে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের নাম লিখে ফেলেছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ট্রফি জেতায় নয়, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহসে।















