আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি শক্তিশালী স্পেন। একদিকে ব্রাজিল-ইতালির রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ রয়েছে মেসিদের কাছে।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বসেরা হওয়ার সুযোগ রয়েছে ইয়ামালদের। হাইভোল্টেজ মহারণ ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ প্রকাশ্যে এল।
জানা গিয়েছে, ফাইনালে গ্যালারিতে দেখা যাবে না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে। কুসংস্কার কারণেই তিনি মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের একটি ম্যাচেও মাঠে দেখা যায়নি মেসিদের দেশের প্রেসিডেন্টকে। ফাইনালের আগে বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে মিলেই জানান, রবিবারের ফাইনাল তিনি নিজের সরকারি বাসভবন ওলিভোস থেকেই দেখবেন।
কারণ, এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আগের সাতটি ম্যাচ তিনি সেখান থেকেই দেখেছেন। প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে লিওনেল মেসিরা। তাই ফাইনালের আগে সেই জায়গা বদলাতে চাইছেন না তিনি।
শুধু তাই নয়, সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে একই জ্যাকেট পরেই ম্যাচ দেখবেন মিলেই। তিনি বলেন, ‘খুব ঠান্ডা থাকায় আমি একটি তেল প্রস্তুতকারী সংস্থার লোগো থাকা ভারী জ্যাকেট পরেছিলাম। সুইজারল্যান্ড ম্যাচে গরম লাগায় সেটি খুলে ফেলেছিলাম। ঠিক তখনই সুইজারল্যান্ড গোল করে। এরপর আবার জ্যাকেটটা পরে নিয়েছিলাম। তারপর আর্জেন্টিনা গোল শোধ করে এবং ম্যাচটাও জিতেছি আমরা। এরপর থেকে আমি আর জ্যাকেটটা খুলিনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে নিউ জার্সিতে বসে ফাইনাল দেখার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিলেই স্পষ্ট জবাব দেন, ‘কোনওভাবেই না। আমি ওলিভোস থেকেই ম্যাচ দেখব।’
আর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালাস নামে পরিচিত নানা ধরনের সৌভাগ্যের রীতিনীতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক সমর্থক প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরেন, কেউ আবার পুরো টুর্নামেন্টে নিজের জার্সি ধুতেই দেন না।
অনেকে নির্দিষ্ট জায়গায় বসেই খেলা দেখেন, আবার কারও বিশ্বাস, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টিভির সামনে না থাকলেই দল ভাল খেলে। অবশ্য, ফুটবলে এই ধরনের রীতিনীতি বা কুসংস্কার অত্যন্ত প্রচলিত।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ চলাকালীন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দেখা যায়, একদল সমর্থক বাইবেল পড়া শুরু করার পরই আর্জেন্টিনা গোল করে। তারপর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই তাঁরা একই রীতি পালন করে চলেছেন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টদের মধ্যেও এই কুসংস্কারের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
সেই ম্যাচেই অঘটনের শিকার হয়ে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর থেকে তাঁকে মুফা বা অপয়া আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে কোনও আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টকে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। সেই প্রথাই এবার বজায় রাখলেন হাভিয়ের মিলেইও। আশা, তাঁর এই সৌভাগ্যের রুটিন মেনেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা।
















