আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য রেফারির নাম ঘোষণা করল ফিফা। রবিবার নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে চলা মহারণে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দায়িত্ব পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ৪৬ বছরের এই ম্যাচ অফিসিয়াল। ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা এক ভিডিও বার্তায় ভিনচিচের নাম ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘সোনালি স্ট্রাইপ পরা সত্যিই বিশেষ সম্মানের। আর সেই সম্মান পাচ্ছেন স্লাভকো ভিনচিচ।’ নাম ঘোষণার সময় আবেগে চোখে জলও দেখা যায় ভিনচিচের।
ফাইনালে ভিনচিচকে সহায়তা করবেন টোমাজ ক্লাঞ্চনিক (প্রথম সহকারী রেফারি), আন্দ্রাজ কোভাচিচ (দ্বিতীয় সহকারী রেফারি), আদহাম মাখাদমেহ (চতুর্থ রেফারি) এবং মহম্মদ আলকালাফ (রিজার্ভ সহকারী রেফারি)। ৪৬ বছর বয়সি স্লাভকো ভিনচিচ ইউরোপের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল হবে তাঁর কেরিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং চলতি বিশ্বকাপের চতুর্থ ম্যাচ।
বিশ্বকাপের পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও রেফারিং করেছেন ভিনচিচ। ২০২৪ সালে ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ড উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
এছাড়া ২০২২ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগ ফাইনালেও ম্যাচ অফিশিয়ালের ভূমিকায় ছিলেন। এছাড়াও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, নেশনস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ এবং একাধিক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিয়মিত রেফারিং করেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে ভিনচিচের নাম এক তিক্ত স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে তিনিই ছিলেন ম্যাচের রেফারি।
সেই ম্যাচে লিওনেল মেসির দল ২-১ গোলে হেরে যায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেটিই ছিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শেষ হার।
তবে ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষেই একটি পেনাল্টি দিয়েছিলেন ভিনচিচ। কর্নারের সময় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান তিনি। সেই স্পটকিক থেকে গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে রেফারি ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবল মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার দেখার, বিশ্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্লাভকো ভিনচিচ কীভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন।
















