ইস্টবেঙ্গল - ১ (এডমুন্ড)
জামশেদপুর এফসি - ২ (এজে, রেই)
আজকাল ওয়েবডেস্ক: জোড়া জয়ের পর আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল। ঘরের মাঠে প্রথম হার। শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক গোলে এগিয়ে গিয়েও জামশেদপুর এফসির কাছে ১-২ গোলে হার ইস্টবেঙ্গলের। প্রাক্তনীরাই এদিন কাঁটা লাল হলুদের। দুরন্ত ছন্দে ছিলেন মাদি তালাল এবং মেসি বাউলি। জয়ের হ্যাটট্রিক করার সুযোগ ছিল। এদিন জিতলেই আইএসএল টেবিলের মগডালে চলে যেত অস্কার ব্রুজোর দল। কিন্তু শেষদিকে ছন্দপতন। সঙ্গে একাধিক গোল মিস। যার খেসারত দিতে হল। হারের ফলে নেমে গেল তিন নম্বরে। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট লাল হলুদের। সমসংখ্যক ম্যাচে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে একনম্বরে জামশেদপুর। ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র গোলদাতা এডমুন্ড লালরিনডিকা। জামশেদপুরের হলে গোল করেন স্টিফেন এজে এবং রেই তাচিকাওয়া। চলতি মরশুমে হারের প্রথম স্বাদ পেলেন অস্কার। তবে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, রেজাল্ট যেকোনও দলের পক্ষে যেতে পারত। অসংখ্য সুযোগ পায় দুই দলই।
ঘরের মাঠে শুরুতে জোড়া জয়ের পর হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে একটানা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। বেশ কিছু অংশে ভাল খেলে। ম্যাচের দুই অর্ধ দু'রকম। প্রথমার্ধের অধিকাংশই সময় আধিপত্য ছিল জামশেদপুরের। শুরুতে কিছুটা কোণঠাসা দেখায় ইস্টবেঙ্গলকে। চলতি মরশুমে আইএসএলের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে লাল হলুদ ব্রিগেড। দলের প্রাণ ভ্রমরা মিগুয়েল। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের চালনাশক্তিও। কিন্তু এদিন আবার ফেরে সেই পুরোনো রোগ। ফিনিশিংয়ের অভাব। যদিও প্রথম ২০ মিনিট আধিপত্য বিস্তার করে ওয়েন কোয়েলের দল। দুই প্রান্তে ভিন্সি এবং শাননের যুগলবন্দিতে বারবার চাপে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের সাত মিনিটে গোল করে জামশেদপুর। কিন্তু অফসাইডের জন্য মেসি বাউলির গোল বাতিল হয়ে যায়। সেলিব্রেশন শুরু করেও থামতে জয় লাল হলুদের প্রাক্তনীকে। প্রথম আধ ঘণ্টার অন্তত তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত জামশেদপুর। খেলার প্রথম দুই কোয়ার্টারে ব্যস্ত থাকেন প্রভসুখন গিল। ১৩ মিনিটে ভিন্সির শট বাঁচায় ইস্টবেঙ্গল কিপার। তাঁর কিছুক্ষণের মধ্যেই ডানদিক থেকে ভিন্সির ডান পায়ের দূরপাল্লার শট বাঁচান গিল। সেই সময় মুহুর্মুহু আক্রমণ শানায় জামশেদপুর। নিকোলার বাঁ পায়ের শট সরাসরি তালুবন্দি করেন ইস্টবেঙ্গল কিপার।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে একটি ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন করেন ব্রুজো। চুংনুঙ্গার পরিবর্তে নামান রাকিপকে। প্রথমদিকে প্রতিপক্ষের দাপট বেশি থাকলেও কয়েকটা সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গলও। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি মিগুয়েল, ইজ্জেজারিরা। গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ম্যাচের ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। গোল এডমুন্ড লালরিনডিকার। মিগুয়েলের পাস থেকে বিপিনের ক্রস। বাঁ পায়ে রিসিভ করে, ডান পায়ের শটে গোল এডমুন্ডের। এরপর বেশ কিছুক্ষণ ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে লাল হলুদ। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে মিস মিগুয়েলের। তার এক মিনিটের মধ্যে কর্নার থেকে ইজ্জেজারির হেড বাইরে যায়। ম্যাচের সবচেয়ে সহজতম সুযোগ। প্রথমার্ধের তুলনায় বিরতির পর ভাল খেলে অস্কারের দল। মিগুয়েল-ইজ্জেজারি জুটি কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। ডানদিকে অনবদ্য এডমুন্ড। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি বিপিনের ঠিকানা লেখা মাইনাস। পা ছোঁয়ালেই গোল। কিন্তু বল ইজ্জেজারি পর্যন্ত পৌঁছনোর আগেই ক্লিয়ার হয়ে যায়।
ইস্টবেঙ্গলের চাপ থাকা সত্ত্বেও, খেলা থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়নি জামশেদপুর। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে মেসির থেকে মাদি তালালের শট বাঁচান প্রভসুখন। তবে বেশিক্ষণ দুর্গ অক্ষত রাখতে পারেননি। তার এক মিনিটের মধ্যে ১-১। নিকোলার কর্নার থেকে ম্যাচের ৬১ মিনিটে স্টিফেন এজের হেডে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। বাকি ৩০ মিনিট দুই দলের যে কেউ গোল সংখ্যা বাড়াতে পারত। এদিন একাধিক গোল মিসের খেসারত দিতে হল লাল হলুদকে। শেষদিকে সুযোগ পান ইজ্জেজারি। কিন্তু ঘাড়ের ওপর ডিফেন্ডার নিয়ে বাইরে মারেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে জয় গুপ্তর শট বাঁচান অ্যালবিনো। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি নন্দকুমার, শৌভিক চক্রবর্তী এবং পিভি বিষ্ণুকে নামান ব্রুজো। কিন্তু লাভ হয়নি। শেষদিকে ফাঁকা গোল পেয়েও বাইরে মারেন বিষ্ণু। ইস্টবেঙ্গলের গোল নষ্টের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে ২-১ জামশেদপুরের। জয়সূচক গোল পরিবর্ত রেই তাচিকাওয়ার। মাদি তালালের ব্যাক হিল ধরে প্রায় বক্সের মাথা থেকে ডান পায়ের দূরপাল্লার শটে নিখুঁত ফিনিশ জাপানির। এরপরও খেলা ড্র করার সুযোগ ছিল লাল হলুদের সামনে। কিন্তু সম্ভাবনা তৈরি হলেও গোল অধরা।
