আজকাল ওয়েবডেস্ক:  খেলোয়াড়জীবনে তিনি বহু ডার্বির ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। মোহনবাগান গ্যালারিতে একসময় তাঁর নামে স্লোগান উঠত,‘শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, ব্যারেটোই ভরসা।’ সেই কিংবদন্তি হোসে রামিরেজ ব্যারেটো এবার কোচের ভূমিকায় জর্জ টেলিগ্রাফের দায়িত্বে। কিন্তু কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচেই তাঁর দলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল ইস্টবেঙ্গল।

খেলোয়াড় হিসেবে অসংখ্য ডার্বিতে জয় পেলেও কোচ ব্যারেটোর জর্জ টেলিগ্রাফকে এদিন হার মানতে হল লাল-হলুদের কাছে। গতবারের কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল নতুন মরশুমের শুরুটাই করল দাপটের সঙ্গে। ম্যাচের ফল, ইস্টবেঙ্গল ৩, জর্জ টেলিগ্রাফ ০।

তবে স্কোরলাইন আরও হৃষ্টপুষ্ট  হতেই পারত। একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। জর্জ টেলিগ্রাফের গোলের নীচে দাঁড়িয়ে সংগ্রামজিৎ চৌধুরী বারবার দলকে বিপদমুক্ত করেন। তাঁর দুর্দান্ত কিছু সেভ না থাকলে জর্জের হারের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

লাল-হলুদের সিনিয়র দলের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসা করে আসছেন জেসিন টিকের। অস্কার ব্রুজোঁর সময়ে যখন অ্যান্টন সোজবার্গকে দলে নেওয়ার আলোচনা চলছিল, তখন সিনিয়র দলের অনেকেই জেসিন টিকে ও সায়ন ব্যানার্জিদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সায়ন এখন মোহনবাগানে, তবে ইস্টবেঙ্গলে থেকে গিয়েছেন জেসিন। এদিন দলের হয়ে প্রথম গোলটি করলেন তিনি।

পিভি বিষ্ণুর সঙ্গে দুর্দান্ত ওয়ান-টু খেলে বক্সের মাথা থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে জেসিন টিকে বল জালে জড়িয়ে দেন। তাঁর আক্রমণাত্মক উপস্থিতিই বারবার সমস্যায় ফেলছিল জর্জের রক্ষণকে।

দ্বিতীয় গোলের পিছনেও অবদান ছিল জেসিনের। জর্জ টেলিগ্রাফের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস পেয়েছিলেন সুমন দে। তাঁকে ফাউল করেন জর্জের গোলকিপার সংগ্রামজিৎ। ফলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান জোসেফ জাস্টিন।

পিভি বিষ্ণুও নিজের নাম স্কোরশিটে তুলতে পারতেন। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে তাঁকে থামিয়ে দেন সংগ্রামজিৎ। জর্জ টেলিগ্রাফের গোলকিপার এদিন দলের সেরা পারফর্মারদের একজন হয়ে থাকলেন। তাঁর প্রতিরোধ না থাকলে ইস্টবেঙ্গলের গোলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র একবার ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পেরেছিল জর্জ টেলিগ্রাফ। সেই একটি মুহূর্ত ছাড়া পুরো ম্যাচেই তাদের আক্রমণ তেমন ধারালো মনে হয়নি। অন্যদিকে, জেসিন টিকে এবং পিভি বিষ্ণুকে তুলে নেওয়ার পরও ইস্টবেঙ্গল একের পর এক সুযোগ তৈরি করে যায়। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে ব্যবধান বাড়েনি।

শেষ দিকে পরিবর্ত হিসেবে নামা বেলাল লাল-হলুদের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। 

কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচেই গতবারের চ্যাম্পিয়নরা বুঝিয়ে দিল, ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে তারা শুরু থেকেই প্রস্তুত। অন্যদিকে, ব্যারেটোর জর্জ টেলিগ্রাফকে আরও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে এই ম্যাচে হারলেও সংগ্রামজিৎ চৌধুরীর পারফরম্যান্স তাদের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হয়ে থাকল।