আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজয় হাজারেতে দুর্ধর্ষ ফর্মে আছেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। ইংরেজিতে যাকে 'রেড হট ফর্ম' বলে। চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যেই ৬০০ রান করে ফেলেছেন। একদিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী বাঁ হাতি ব্যাটার। কিন্তু তাসত্ত্বেও ভারতের একদিনের দলে ব্রাত্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে একটানা রানের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ভারতের একদিনের দলে সুযোগ পাননি। ভারতের তারকাখচিত দলে এখনও জায়গা নেই তাঁর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজে বাঁ হাতি ব্যাটারের সুযোগ পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষমেষ পাননি। তবে এই নিয়ে হাহুতাশ করতে চান না পাড়িক্কল। বরং জানান, এতটাই প্রতিযোগিতা যে দলে সুযোগ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
পাড়িক্কল বলেন, 'আমি বলব না এটা হতাশার ছিল। অবশ্যই আমি দলে সুযোগ পাওয়ার আশা করেছিলাম। অপেক্ষা করে ছিলাম। তবে পাশাপাশি জানতাম অনেক ব্যাটার লাইনে অপেক্ষা করছে। সবাই ভাল খেলছে। একদিনের দলে ঢোকা সহজ নয়।' আরও অপেক্ষা করতে রাজি বাঁ হাতি। একইসঙ্গে নিজের পারফরম্যান্স চালিয়ে যেতে চান। মনে করেন, একজন পেশাদার অ্যাথলিটের এটাই কাজ। এই প্রসঙ্গে পাড়িক্কল বলেন, 'ক্রিকেটার হিসেবে এমন পরিস্থিতি মেনে নিতেই হবে।নিজের কাজ করে যেতে হবে। রান করে যেতে হবে।' টেস্ট খেলার মনোভাব নিয়ে শুরু করেছিলেন পাড়িক্কল। তাতে ভীত গড়েছিলেন। কিন্তু আইপিএল তাঁর মনোভাবে বদল আনে। ক্লাসিক্যাল ক্রিকেট থেকে সরে মারকুটে মেজাজ রপ্ত করেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে থাকাকালীন নিজের মধ্যে এই পরিবর্তন আনেন। যার জন্য আরসিবির সাপোর্ট স্টাফদের কৃতিত্ব দেন।
পাড়িক্কল বলেন, 'আমি টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছি। তাই আমার খেলার একটা নির্দিষ্ট ধরন ছিল। কিন্তু বর্তমানে টি-২০ যেভাবে খেলা হয়, সেই আগ্রাসনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সত্যি বলতে, তার যাবতীয় কৃতিত্ব আরসিবিতে দীনেশ কার্তিক এবং অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের। ওরা আমাকে খুবই সাহায্য করেছে। কীভাবে টি-২০ খেলা রপ্ত করতে হয়, সেটা আমাকে ওরা শিখিয়েছে। এর আগে আমি শুধু পাওয়ার প্লে নিয়ে ভাবতাম। ৭ থেকে ১৪ ওভারে ব্যাট করা নিয়ে ভাবতাম না।' সব ধরনের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিলেও, তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ একদিনের ক্রিকেট। ধরে খেলার পাশাপাশি শটও মারতে পারবেন। পাড়িক্কল বলেন, 'একদিনের ক্রিকেটে টেম্পো এবং ধারা ধরে রাখাই প্রধান বিষয়। আমি সেটা ভাগ্যবশত ৫০ ওভার ক্রিকেট কেরিয়ারের শুরুতেই পেয়ে গিয়েছি। আমি বুঝতে পেরেছি কীভাবে ইনিংস গড়তে হয়। সেটাই আমাকে উপকৃত করেছে। প্রথমে নতুন বল একটু সামলে খেলতে হয়। তারপর বোলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হয়। বাকিটা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। প্রথমে ব্যাট করলে, সাধারণত এভাবেই চলে। পরে ব্যাট করলে, টার্গেট অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।' আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরে সুযোগ না পেলেও, লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বাঁ হাতি ব্যাটার।
















