কৃশানু মজুমদার: মনবীর সিং দেওলের গল্পটা যেন ঠিক মাঠের মাঝখান থেকেই শুরু হয়। সেন্টার সার্কল, যেখান থেকে খেলা শুরু হয়, সেখান থেকেই তিনি গোল করেন।
ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে মনবীর হয়ে উঠেছেন 'টক অফ দ্য নেশন'।
অন্যরা যেখানে পাস খোঁজেন, নামধারীর ফুটবলার মনবীর সেখানে দূরত্ব মাপেন চোখে—কতটা পথ পাড়ি দিলে স্বপ্ন জালে জড়িয়ে যাবে। সেই স্বপ্ন তাঁকে এগিয়ে নিয়ে চলে।
মনবীরের শটে বদলে যায় সময়ের গতি। দর্শক, প্রতিপক্ষ, গোলরক্ষক স্তম্ভিত হয়ে দেখেন মিসাইলের মতো জালে আছড়ে পড়েছে সেই শট।
ডায়মন্ড হারবার এবং শ্রীনিধি-র বিরুদ্ধে মনবীর সিং দেওলের ওই দূরপাল্লার শটে গোল দেখে মনে হয় তিনি যেন দূরত্বকে চ্যালেঞ্জ জানান এই বলে, ''দেখি, কতটা দূরে তুমি।''

ডায়মন্ড হারবারের গোলকিপার ধীরজ অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে দেশের বার আগেলেছেন। সেই তিনিও মনবীরের শটে বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত। মনবীরের এই গোল কেবলই গোল নয়। এটা এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত। যেন দূর থেকে কেউ বলে উঠছে, ''আমি আসছি, প্রস্তুত হও।''
নামধারীর বিস্ময় গোলের মালিক মনবীরকে আবিষ্কার করার পিছনে অবদান রয়েছে আরেক পাঞ্জাবতনয়ের। তিনি গুরবিন্দর সিং। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ডিফেন্ডার এখন কানাডায় ফুটবল অ্যাকাডেমি চালাচ্ছেন। অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে গুরবিন্দরের অ্যাকাডেমি গ্রাসরুট সকার অ্যাকাডেমি।
ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ডিফেন্ডার বলছেন, ''পাঞ্জাবের গ্রামে এক টুর্নামেন্টে আমি মনবীরের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই।''
পরে দোয়াবা ইউনাইটেড ক্লাবে গুরবিন্দর-মনবীর একসঙ্গেও খেলেন। তরুণ মনবীরকে কোচিং করান বহু যুদ্ধের সৈনিক গুরবিন্দর। ইস্টবেঙ্গলের ১৬ নম্বর জার্সির মালিক গুরবিন্দর বলছেন, ''মনবীর সিং দেওলের কোয়ালিটি মোহনবাগানের মনবীর সিংয়ের থেকেও ভাল।''
বলিউডের সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রর গ্রাম ডাঙ্গু থেকেই উত্থান মনবীরের। সেই একই মাটি থেকে নতুন করে স্বপ্ন তৈরি হচ্ছে। মনবীর সেই মাটিরই ছেলে। তাঁর পায়ে ধুলো, তার চোখে আলো, আর বুকের ভিতর এক অদম্য তাগিদ।

















