আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরও একবার বৈভবের বৈভব দেখল মুল্লানপুর। আগের দিন মাত্র ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হয়েছিল। ভাঙা হয়নি ক্রিস গেইলের রেকর্ড। মনে হয়েছিল এদিন আর সেই ভুল হবে না। কিন্তু আবার তার পুনরাবৃত্তি। এবার ৪ রান দূরে থামলেন। আগের দিন ৯৭ রানে আউট হওয়ার পর এদিন ৯৬ রানে আউট। কাগিসো রাবাডার শর্ট বলে ধরা পড়লেন থার্ড ম্যানে। তবে বিগ ম্যাচে বিগ ইনিংস। একাই টানেন দলকে। ৪৭ বলে ৯৬ রান করে আউট হন বৈভব সূর্যবংশী। ইনিংসে ছিল ৭টি ছয়, ৮টি চার। প্রতিদিন বিশ্বকে অবাক করছেন বিস্ময় বালক। এতদিন পর্যন্ত শুরুতেই ধামাকা আসত তাঁর ব্যাট থেকে। কিন্তু এদিন দলের প্রয়োজনে এবং কঠিন উইকেটে বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংস ১৫ বছরের বালকের। এক লহমায় যেন অনেকটাই পরিণত বৈভব। তাঁর কাঁধে ভর করে নির্ধারিত ওভারের শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। যোগ্য সঙ্গত দেন রবীন্দ্র জাদেজা। ৩৫ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন ভারতীয় অলরাউন্ডার। শেষদিকে জ্বলে ওঠেন ডোনোভ্যান ফেরেরা। ১১ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এটাই শেষদিকে পার্থক্য গড়ে দেয়। দুই ওভারে ৪৫ রান দেন রশিদ খান। দিনটা আফগানিস্তানের তারকার ছিল না। 

এদিন শতরান না পেলেও, আন্দ্রে রাসেলের রেকর্ড ভাঙেন বৈভব। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত আইপিএলে ৯৩২ রান ছিল সূর্যবংশীর। আরও ৬৮ রান করলে, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বল খেলে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১০০০ রানের গণ্ডি পার করার হাতছানি ছিল। এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত আইপিএলে ৪০২ বল খেলেছিলেন বৈভব। এই রেকর্ড ছিল আন্দ্রে রাসেলের দখলে। ৫৪৫ বলে এই রেকর্ড করেছিলেন ক্যারিবিয়ান তারকা। শুক্রবার সেটা ভেঙে দিলেন সূর্যবংশী। তবে বৈভবের বৈভবসুলভ ইনিংস নয়। সাধারণত ঝড়ের গতিতে খেলেন। কিন্তু এদিন দলের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেন সূর্যবংশী। রাজস্থানের ইনিংসের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ১৫ বছরের বিস্ময় বালক। ৩১ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান। চলতি আইপিএলে তাঁর সবচেয়ে মন্থর শতরান। মোট ষষ্ঠ। 

এদিন টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রিয়ান পরাগ। বড় রান চাপিয়ে দেওয়া লক্ষ্য ছিল। কিন্তু পরিকল্পনামাফিক যায়নি। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারায়। ইনিংসের চতুর্থ বলে প্রথম উইকেট হারায় রাজস্থান। মাত্র ১ রানে ফেরেন যশস্বী জয়েসওয়াল। দ্বিতীয় ওভারে জোড়া উইকেট। ফেরেন চলতি আইপিএলে বৈভবের পর সবচেয়ে ছন্দে থাকা ধ্রুব জুরেল। মাত্র ৭ রান করেন। শুরুতেই জোড়া উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় রাজস্থান। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের একটি ফাটকা কার্যকরী হয়।

চলতি আইপিএলে একেবারেই ছন্দে নেই রবীন্দ্র জাদেজা। এলিমিনেটরেও দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে কার্যকরী হননি। কিন্তু এদিন তাঁকে চার নম্বরে নামানো হয়। বৈভবের সঙ্গে দলকে পাওয়ার প্লের শেষে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন। দীর্ঘদিন পর পুরোনো জাদেজার এক ঝলক পাওয়া যায়। পাওয়ার প্লের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে রাজস্থানের রান ছিল ৭০। শুরুর ঝাপটা সামলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। কিন্তু চোটের জন্য ৮ ওভারের শুরুতেই শুশ্রূষার জন্য মাঠ ছাড়েন। এখানেই ফের কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় রাজস্থান। মিডল অর্ডার ব্যর্থ। ছক্কা, চার হাঁকিয়ে শুরু করলেও, ১১ রানে ফেরেন পরাগ। রান পাননি দাসুন শানাকা (৩)। ডোনোভ্যান ফেরেরার আগে নামানো হয় জোফ্রা আর্চারকে। কিন্তু লাভ হয়নি। পাওয়ার প্লেতে আনা হয়নি রশিদ খানকে। অষ্টম ওভারে বল করতে আসেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিত শুরু। রশিদের প্রথম ওভারে ১৮ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে বৈভবের ক্যাচ ফস্কান সাই সুদর্শন। ৪৬ রানে ছিলেন উঠতি তারকা। তার খেসারত দিতে হয় গুজরাটকে। বড় ম্যাচে এই উইকেটে ২১৪ রান তাড়া করে জেতা সহজ হবে না গিলদের।