আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। সাধারণত টেবিলের সেরা দুই দলই ফাইনাল খেলে। এবারও অন্যত্র নয়। রবিবার ফাইনালে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি গুজরাট টাইট্যানস। শুক্রবার রাতে অনায়াসেই রাজস্থান রয়্যালসের রান তাড়া করে জেতে শুভমন গিলের দল। নিখুঁত ইনিংস গুজরাট অধিনায়কের। একেবারে কপিবুক ক্রিকেট। ৪৭ বলে শতরানে পৌঁছে যান শুভমন গিল। গুজরাট টাইট্যান্সের প্লেয়ার হিসেবে দ্রুততম। আইপিএলেও যে অভিধান মেনে দুশো রানের টার্গেট অতিক্রম করা যায়, সেটা দেখালেন শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন। অনবদ্য ব্যাটিং গুজরাটের দুই ওপেনারের। চলতি আইপিএলে সেরা ইনিংস গিলের। পেরিয়ে যান ৭০০ রান। পুরোপুরি একপেশে ম্যাচ। বিশেষ করে দ্বিতীয় পর্বে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারের শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান তোলে রাজস্থান রয়্যালস। মনে হয়েছিল দ্বিতীয় ইনিংসে আরও কিছুটা মন্থর হবে উইকেট। রান তাড়া করা সহজ হবে না। কিন্তু গুজরাটের দুই ওপেনার ম্যাচের রং বদলে দেয়। সর্বোচ্চ মানের ব্যাটিং। ওপেনিং পার্টনারশিপ ভাঙতে কালঘাম ছুটে যায় রাজস্থানের। ১৮.৪ ওভারে জয়সূচক রানে পৌঁছে যায় গুজরাট। আট বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জয়।
অষ্টমবার ১০০ বা তারও বেশি রানের পার্টনারশিপ। ৩০ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান গিল। চলতি আইপিএলে সপ্তম। মোট ৩৩তম। সুন্দর, পরিকল্পিত ইনিংসে ছিল ১টি ছয় এবং ৭টি চার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন সুদর্শন। ২৬ বলে ৫০ রান সম্পূর্ণ করেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী। ব্যাটিংকে অতি সহজ করে দেন। গিল এবং সুদর্শনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, মাঠে রাজস্থানের ফিল্ডারের সংখ্যা কম। বড় শট নয়, অসাধারণ টাইমিং এবং প্লেসিং। প্রথম উইকেটে ১৬৭ রান যোগ করে গুজরাটের ওপেনিং জুটি। কিন্তু অবশেষে আবার আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তি। একইভাবে আউট হন সুদর্শন। বল বাউন্ডারি অতিক্রম করলেও, ব্যাট ছিটকে গিয়ে লাগে উইকেটে। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেও একইভাবে আউট হয়েছিলেন বাঁ হাতি ওপেনার। এদিন ৩২ বলে ৫৮ করার পর কী করে এমনভাবে আউট হলেন সেটাই প্রশ্নের। উইকেটের অন্যপ্রান্তে এমন আউট দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন গিল। কিন্তু এই আউটের প্রভাব তাঁর ওপর পড়েনি। শতরান সম্পূর্ণ করেন। ৫৩ বলে ১০৪ রান করে আর্চারের বলে এলবিডব্লু হন। তবে আউট হওয়ার আগেই দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে যান অধিনায়ক। স্টাইলিশ ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ১৫টি চার।
এদিন টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রিয়ান পরাগ। শুরুতেই হোঁচট খায় রাজস্থান। প্রথম দুই ওভারের মধ্যে জোড়া উইকেট হারায়। ফিরে যান যশস্বী জয়েসওয়াল (১) এবং ধ্রুব জুরেল (৭)। কিন্তু দলকে লড়াইয়ে ফেরায় বৈভব সূর্যবংশী এবং রবীন্দ্র জাদেজা। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান যোগ করে রাজস্থান। জাদেজাকে চারে নামানোর ফাটকা কার্যকরী হয়। তবে মিডল অর্ডার রান পায়নি। সূর্যবংশী এবং জাদেজার ওপর ভর করে লড়াই করার মতো রানে পৌঁছয় রাজস্থান। আগের দিন মাত্র ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেছিলেন বৈভব। এদিন ৪ রান দূরে থামলেন। ৪৭ বলে ৯৬ রান করে আউট হন। ইনিংসে ছিল ৭টি ছয় এবং ৮টি চার। তবে আন্দ্রে রাসেলকে টপকে যান। সবচেয়ে কম বলে আইপিএলে ১০০০ রানের গণ্ডি টপকান। এদিন একেবারে অন্য মেজাজে দেখা যায় বৈভবকে। দলের প্রয়োজনে সংযমী ক্রিকেট খেলেন। উইকেটের অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গত দেন জাদেজা। ৩৫ বলে ৪৫ রান করেন। শেষদিকে ঝড় তোলেন ডোনোভ্যান ফেরেরা। ১১ বলে করেন ৩৮ রান। কিন্তু শেষপর্যন্ত কাজে লাগেনি।















