আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেটে রোজই নতুন বিতর্ক। ক্রিকেটারদের পক্ষে কথা বলার জন্য এবার প্রাণনাশের হুমকি পান বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ মিঠুন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন সিনিয়র কর্তা দেশের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করেন। ক্রিকেটারদের সমর্থন করার জন্য তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একটি সর্বভারতীয় ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিঠুন জানান, সামনেই টি-২০ বিশ্বকাপ। তাই প্লেয়ারদের কথা ভেবেই তাঁদের পাশে দাঁড়ান। নিরাপত্তাজনিত কারণের জন্য বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর নাজমুল ইসলাম জানান, আইসিসি তাঁদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় না সরালে, বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে কোনও ক্ষতিপূরণ পাবে না ক্রিকেটাররা। তিনি আরও দাবি করেন, প্লেয়াররা এমন কিছু অর্জন করে ফেলেনি যার ফলে বেতন কাটা যাবে না। তাঁর এই মন্তব্যে ক্ষেপে যায় ক্রিকেটাররা। সবাই স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ বয়কট করার হুমকি দেয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হয়ে কথা বলেন মিঠুন। তারপরই প্রাণনাশের হুমকি পান। যা প্রচণ্ড অবাক করেছে তাঁকে। এর আগে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। মিঠুন বলেন, 'আমার এরকম কোনও অভিজ্ঞতা হয়নি। এমন অভিজ্ঞতা আমার জীবনে প্রথম। আমি কোনওদিন বিতর্কেও জড়াইনি। তাই বিষয়টা আমার মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি দেশের বিরুদ্ধে কবে কথা বলেছি? আমি জানি না এর ব্যাখ্যা কিভাবে করব, কারণ এমন প্রথমবার আমার সঙ্গে হল। আমি এমন কোনও শব্দ ব্যবহার করিনি যা দেশের বিরুদ্ধে যেতে পারে। আমি শুধুমাত্র ক্রিকেট এবং প্লেয়ারদের স্বার্থে কথা বলেছি। এখানে কোনও ব্যক্তিগত বিষয় নেই। আমি একটা সংস্থার সভাপতি। আমি প্লেয়ারদের হয়ে কথা না বললে, এই পদে থেকে কী লাভ? কেউ দেশের উর্ধ্বে নয়।'
ক্রিকেটারদের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, প্রাণনাশের হুমকির কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানাননি। তিনি জানতে পেরেছেন, অনেক প্লেয়ারই একই বার্তা পেয়েছে। মিঠুন বলেন, 'আমি বোর্ডকে জানাইনি। আমি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন তুলছি না। কিন্তু ওয়াটসঅ্যাপে মেসেজ বা ভয়েস নোট আমি বন্ধ করতে পারব না। সংস্থার পক্ষ থেকে আমার নম্বর দেওয়া হয় যেকোনো প্রেস রিলিজে। তাই আমি এগুলো বেশি পাচ্ছি। তবে আমি অন্য প্লেয়ারদের থেকে শুনেছি, তাঁরাও প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছে। আমি এখনও এই বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলিনি। আমি জানি না কীভাবে আইনের সাহায্য নেব। কারণ আমি কোনওদিন পুলিশ স্টেশনে ঢুকিনি।' বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত। মিঠুন জানান, তিনি চান তাঁর দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিক। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি জলাঞ্জলি দিয়ে নয়। মিঠুন বলেন, 'আমরা অবশ্যই প্লেয়ারদের নিরাপত্তা চাই। প্রাণনাশের হুমকির মাঝে কাউকে খেলতে পাঠাতে চাই না। একই সঙ্গে আমরা চাই প্লেয়াররা বিশ্বকাপ খেলুক। আমি বিশ্বাস করি, প্লেয়ারদের কথা ভেবে একটা সমঝোতায় আসবে বোর্ড এবং সরকার।' এখনও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ড। সমস্যার সমাধান বের করতে পারেনি আইসিসি।
