আজকাল ওয়েবডেস্ক: একজন ছিলেন গতির রাজা, আরেকজন সুরের সম্রাজ্ঞী।
একজন ব্রেট লি। যাঁর বলের গতিতে কাঁপত বিশ্বসেরা সব ব্যাটাররা।
অন্যদিকে আশা ভোঁসলে। যাঁর কণ্ঠে মোহিত হত অগণিত হৃদয়।
আশা ও ব্রেট লি-র জগৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজনের আকাশ ব্যাট-বলের দ্বৈরথের। আরেকজনের আকাশে সুরের মায়া।
তবু কখনও কখনও জীবন এমনই অদ্ভুত সেতুবন্ধন তৈরি করে। একদিন, গতি আর সুরের এই দুই জগতের দেখা হয়েছিল। দুই মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অন্য গল্প। যা রূপকথা হয়ে রয়েছে এখনও।
আসা ভোঁসলের প্রয়াণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্মৃতিমেদুর সঙ্গীত ও ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে ফুটে উঠছে সেই রূপকথাই।
মানুষের মৃত্যু হয়। কিন্তু রূপকথার মৃত্যু হয় না। তা জীবনের সঙ্গে মিশে জীবনের গল্প হয়েই থেকে যায়।
আজ কেবল স্মৃতিরোমন্থনের দিন। আশা ও ব্রেট লির এই যুগলবন্দি মনে করিয়ে দেয় শিল্প আর প্রতিভার কোনও সীমানা থাকে না। মানুষ চাইলে নিজের সীমা অতিক্রম করে অন্য এক জগতে পা রাখতেই পারে। আর সেই সাহস থেকেই জন্ম নেয় এমন কিছু মুহূর্ত, যা সময়ের সীমানা পেরিয়ে স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকে।
আশা ভোসলের পাশে দাঁড়িয়ে গিটারে মূর্ছনা তুলে গান গাইছেন অজি স্পিডস্টার। এই দৃশ্য এখনও সজীব ভক্তদের হৃদয়ে।
আশা ও ব্রেট লি গেয়েছিলেন, 'ইউ আর দ্য ওয়ান ফর মি'। গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
আত্মজীবনী 'মাই লাইফ'-এ ব্রেট লি সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতে থাকার সময়ে এই গানের ভিডিওটির শুটিং হয়েছিল। গানটিতে তিনি হিন্দি লাইনও গেয়েছিলেন, ''হাঁ, ম্যায় তুমহারা হুঁ, তুমহারা হি রহুঙ্গা।''
ব্রেট লি লিখেছেন, ''সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। আমার দারুণ মজা লেগেছিল। কোনও সতীর্থকেই জানাইনি। পুরো ব্যাপারটাই গোপন রেখেছিলাম। শুটিংয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলাম, আমি শুধু শহরটা ঘুরে দেখছি। সেই ব্যস্ত রেকর্ডিংয়ের চার মাস পর, আশা ভোঁসলে সিডনির অপেরা হাউসে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হয়। তিনি আমাকে নিজের সই সম্বলিত তাঁরই একটি অ্যালবাম উপহার দিয়েছিলেন। আমার কাছে তা অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।''
ব্রেট লি সেই গানের কথা মাত্র আধ ঘণ্টায় লিখেছিলেন। অজি সুপারস্টার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ''আমাকে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে আমি গান গাইতে পারি। দলের হোটেলের একটি ঘরে কয়েকটি গান গেয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। পরে জানানো হয়, অ্য়ালবামের জন্য আমার একটি গান বেছে নেওয়া হবে।''
উল্লেখ্য, বিমানে সফর করার সময়ে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মাত্র আধঘণ্টায় গান লিখেছিলেন ব্রেট লি।
২০১১ সালে ব্রেট লি কিংবদন্তি সুরসম্রাজ্ঞীর প্রশংসা করে বলেছিলেন, ''অত্যন্ত রসিক একজন মানুষ। এমন এক কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ সত্যিই অসাধারণ। আশা তখন সত্তরোর্ধ্ব, বলিউডে হাজার হাজার গান গাওয়া হয়ে গিয়েছে, অসংখ্য অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। তিনি ছিলেন ভারতীয় সংগীতের আরিথা ফ্র্যাঙ্কলিন।''
আশা ভোঁসলে নেই। কিন্তু তিনি আছেন তাঁর অমর সঙ্গীতে, তাঁর অনন্য জাদুতে।
আর ব্রেট লি-র সঙ্গে সেই অদ্ভুত যুগলবন্দি যেন আজ আরও বেশি অর্থবহ। কারণ সেটি শুধু একটি গান ছিল না, ছিল দুই ভুবনের এক অবিস্মরণীয় মিলন। যা সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করে আজও সমানভাবে উজ্জ্বল।
কিছু কণ্ঠ কখনও স্তব্ধ হয় না। কিছু গল্প কখনও শেষ হয় না। তা থেকে যায়-- প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে, নতুন করে শোনার অপেক্ষায়।















