আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোটা পৃথিবীতে কত ভাষার, কত বর্ণের মানুষের কত আজব রীতিনীতিই না প্রচলিত রয়েছে। আর সকলের কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞাও এক রকম নয়। তবে নিজেকে সুন্দর দেখতে কে না চান! বিশেষ করে মহিলারা কেউ মেকআপ করেন, কেউ বা গয়না পরে সুন্দর হয়ে উঠতে যান। কারওর আবার স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যই বেশি পছন্দ। কিন্তু সুন্দরী হয়ে উঠতে ঠোঁট, কান কাটতে শুনেছেন কখনও? হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। বাস্তবেই এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানকার মহিলারা যৌবনে ঠোঁট, কান কেটে লাস্যময়ী হয়ে ওঠেন।
আফ্রিকার ইথিওপিয়ার মুরসি এবং সুরি গোষ্ঠীর মেয়েদের মধ্যে এই রীতি প্রচলিত রয়েছে। আক্ষরিক অর্থে পর্দায় হনুমানের বুক চিড়ে রাম-সীতাকে দেখানোর মতোই ওই অঞ্চলের মেয়েরাও নিজেদের ঠোঁট চিড়ে চায়ের প্লেটের মতো দেখতে বড় চাকতি ঢুকিয়ে দেন। ১৫-১৬ বছর বয়স হলেই তাঁরা নীচের ঠোঁট চিরে, কাটা জায়গায় কাঠের টুকরো লাগিয়ে দেন। পরদিন সেই টুকরো বার করে একটু বড় আকারের টুকরো দেওয়া হয়। তারপর থেকে ক্রমশ চাকতির মাপ বাড়তে থাকে। রোজ কাটা ঠোঁটে টান পড়তে পড়তে কাটা অংশের ফাঁকটা অনেকটা বেড়ে যায়। আর তখনই মাটির গোলাকার চাকতি লাগিয়ে দেওয়া হয়।
কয়েকমাস বাদে বাদে ওই উপজাতির মেয়েদের ঠোঁটের চাকতি বদলানো হয়। মাটির প্লেটে নানা রং দিয়ে আঁকা থাকে নকশা। যখন পুরোপুরি তাঁরা ঠোঁটে চায়ের প্লেটের মাপের চাকতি ধরে রাখতে পারেন তখন সেটিই হয়ে যায় স্থায়ী অলংকার। এই কারণেই ওই অঞ্চলের মেয়েদের ঠোঁট উল্টে ঝুলে থাকে গলা পর্যন্ত। বেরিয়ে পড়ে নীচের পাটির দাঁত-মাড়ি। শুধু ঠোঁট নয়, কানের লতিতে বড় ছিদ্র করে সেখানে মাটির বা কাঠের তৈরি বড় ডিস্ক পরেন ওই উপজাতির মহিলারা।
এই প্রথা অনুসারে, ঠোঁট বা কানের লতির আকার যত বড়, মহিলাকে তত বেশি সুন্দর বলে বিবেচনা করা হয়। ঠোঁটের চাকতিই তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এই ঠোঁটের চাকতির কারণে বিয়ের সময় পাত্রপক্ষকে বিশাল টাকা পণ দেওয়ার রীতিও রয়েছে। কথিত রয়েছে, অতীতে দাস ব্যবসায়ীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মুরসি মহিলারা নিজেদের কম আকর্ষণীয় করতে এই প্রথা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে এটি তাঁদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
