আজকের ব্যস্ত ও দৌড়ঝাঁপে ভরা জীবনে সকালে চোখ খোলা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত যে জিনিসটি আমাদের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী হয়ে থাকে, তা হল স্মার্টফোন। কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে ডিভাইসটি আমরা নিজের সুবিধার জন্য এনেছিলাম, সেটিই আমাদের মানসিক শান্তি ও সুখের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছে? বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষা বলছে, একজন গড় মানুষ দিনে প্রায় চার থেকে ছ’ঘণ্টা সময় কাটান মোবাইল ফোনে। আপনিও যদি এই তালিকায় পড়েন, তাহলে এখনই সময় এসেছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করার।
ডিজিটাল ডিটক্স কী
ডিজিটাল ডিটক্স বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে মাত্র ২৪ ঘণ্টা, যেমন শনিবার রাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত স্ক্রিন থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারলে এর ইতিবাচক প্রভাব আপনাকে অবাক করে দেবে।
কেন জরুরি ২৪ ঘণ্টার বিরতি
মানসিক চাপ কমে: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বারবার আসা নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে ‘কর্টিসল’ নামের স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফোন থেকে দূরে থাকলে মানসিক শান্তি দ্রুত অনুভূত হয়।
গভীর ও আরামদায়ক ঘুম: স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো বা ব্লু লাইট আমাদের ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’-এর নিঃসরণে বাধা দেয়। ২৪ ঘণ্টার বিরতি শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লককে নতুন করে সেট করতে সাহায্য করে।
একাগ্রতা বাড়ে: বারবার ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ চেক করার অভ্যাস কমলে মস্তিষ্ক ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর অবস্থায় যেতে পারে, যা কাজের দক্ষতা ও মনোযোগ দুটোই বাড়ায়।
ডিটক্সের ২৪ ঘণ্টায় কী করবেন
আপনজনের সঙ্গে সময় কাটান: ফোন আলমারিতে তুলে রেখে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলুন।
শখে সময় দিন: যে বইটি বহুদিন ধরে টেবিলে পড়ে আছে, সেটি পড়ুন, কিংবা রান্না, আঁকাআঁকির মতো শখে মন দিন।
প্রকৃতির কাছাকাছি যান: সকালে হাঁটতে বেরন, ছবি না তুলে সূর্যোদয় দেখুন। অনুভব করুন যো ক্যামেরা ছাড়াও মুহূর্ত কতটা সুন্দর হতে পারে।
মোবাইল থেকে দূরে খিটখিটে মেজাজ কমবে, চোখের ক্লান্তি ধীরে ধীরে দূর হবে, আপনি বর্তমান মুহূর্তে আরও বেশি করে বাঁচতে শিখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের ‘পারফেক্ট লাইফ’ দেখে তুলনা বা হিংসার অনুভূতি কমে যাবে।
দ্য ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইন্ডিয়ান সাইকোলজির-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যাঁরা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের জীবনে আনন্দ ও সুখ পাওয়ার মাত্রা কমে যায়। ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ ও নতুন জিনিস শেখার জন্য প্রযুক্তি জরুরি হলেও, অতিরিক্ত ব্যবহার মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত ব্যবহারের গুরুতর ঝুঁকি
মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে, মানসিক চাপ, নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব এবং ক্ষতিকর সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
