ভারতীয় রেল পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে আরও এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে। দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালানোর জন্য হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ডিজেলের পরিবর্তে হাইড্রোজেন জ্বালানিতে চলা এই ট্রেনকে ভারতের রেল পরিষেবায় এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দেশের এত রেলপথের মধ্যে কেন এই রুটটিকেই বেছে নেওয়া হল?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জিন্দ-সোনিপত রুটটি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং বর্তমানে এখানে ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করে। রুটটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার হওয়ায় নতুন প্রযুক্তির ট্রায়াল চালানোর জন্য এটি আদর্শ বলে মনে করেছে ভারতীয় রেল। দীর্ঘ দূরত্বে পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালানোর পরিবর্তে ছোট রুটে প্রযুক্তির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই রুটে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে পরীক্ষামূলক পরিষেবার সময় অন্য ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বা মেরামতির কাজও সহজে করা যাবে।
হাইড্রোজেন ট্রেনে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ তৈরি হয় এবং উপজাত হিসেবে নির্গত হয় শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প। অর্থাৎ ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় এটি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং কার্বন নিঃসরণও প্রায় শূন্য।
ভারতীয় রেলের লক্ষ্য ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হাইড্রোজেন ট্রেন প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্প সফল হলে দেশের অন্যান্য নন-ইলেকট্রিফায়েড রেলপথেও ধাপে ধাপে হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রোজেন ট্রেন চালু হলে শুধু পরিবেশেরই উপকার হবে না, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ তুলনামূলক বেশি, তবুও ভবিষ্যতের টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
















