দোতলা বা তিনতলা সিঁড়ি উঠতেই কি হাঁপ ধরে যাচ্ছে? অল্প হাঁটাহাঁটি করলেই কি শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? অনেকেই ভাবেন, বয়স বেড়েছে, শরীরের ওজন বেড়েছে বা কাজের চাপে ক্লান্ত বলেই এমন হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি সবসময় এতটা সহজ নয়। বারবার এমন হলে এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা শরীরের অন্য কোনও সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। তাই এই উপসর্গকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
সিঁড়ি উঠলে কেন হাঁপ ধরে? সিঁড়ি ভাঙার সময় শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তখন পেশিগুলির অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদা মেটাতে হৃদযন্ত্রকে দ্রুত রক্ত পাম্প করতে হয় এবং ফুসফুসকেও বেশি কাজ করতে হয়। তাই একটু হাঁপ ধরা স্বাভাবিক। কিন্তু অল্প কয়েক ধাপ উঠতেই যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা বারবার এমন হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কী কী কারণে এই সমস্যা হতে পারে? এর অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরচর্চার অভাব। যারা দীর্ঘদিন কোনও ব্যায়াম করেন না, তাঁদের শরীরের সহ্যক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন থাকলেও সিঁড়ি ভাঙতে বেশি কষ্ট হয়।
রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া থাকলেও শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছয় না। ফলে সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপ ধরে যেতে পারে। হাঁপানি, দীর্ঘদিনের ফুসফুসের সংক্রমণ বা সিওপিডির মতো রোগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অনেক সময় এটি হৃদরোগেরও প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হৃদযন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। তখন সিঁড়ি ওঠা, দ্রুত হাঁটা বা অল্প কাজ করলেও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
কখন সতর্ক হবেন? যদি সিঁড়ি ওঠার সময় শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, পা ফুলে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। এগুলি গুরুতর হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন? প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
এক-আধবার সিঁড়ি উঠতে হাঁপ ধরা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি প্রতিদিনের সাধারণ কাজেও বারবার শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। সময়মতো পরীক্ষা করালে সমস্যার আসল কারণ জানা যায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা গুরুতর জটিলতা থেকে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে।
















