ফ্রান্সের জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বুধবার 'সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু' বিলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে, যার মাধ্যমে নিরাময়-অযোগ্য (ইনকিউরেবল) রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের নির্দিষ্ট শর্তে প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। দীর্ঘ কয়েক বছরের বিতর্কের পর এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ২৯১-২৪১ ভোটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তিন বছরেরও বেশি আগে এই আইন আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের এমন দেশে বসবাস, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে ইউথেনেশিয়া (Euthanasia) বা মেডিক্যালি অ্যাসিস্টেড সুইসাইড (Medically Assisted Suicide) বৈধ। ফ্রান্সে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ বিষয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
বিলটি মূলত মেডিক্যালি অ্যাসিস্টেড সুইসাইড-এর অনুমতি দেয়। অর্থাৎ রোগী নিজেই চিকিৎসকের দেওয়া প্রাণঘাতী ওষুধ গ্রহণ করবেন। তবে শারীরিকভাবে তা সম্ভব না হলে চিকিৎসক বা নার্স সহায়তা করতে পারবেন।
কী কী শর্ত আছে?
★আবেদনকারীকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী হতে হবে।
★তিনি ফরাসি নাগরিক বা বৈধ বাসিন্দা হতে হবে।
★চিকিৎসককে বিশেষজ্ঞদের একটি দলের সঙ্গে পরামর্শ করে নিশ্চিত করতে হবে যে রোগীর গুরুতর, নিরাময়-অযোগ্য ও প্রাণঘাতী রোগ রয়েছে।
★রোগীকে রোগের অগ্রসর বা শেষ পর্যায়ে থাকতে হবে।
★এমন অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগতে হবে, যা উপশম করা সম্ভব নয়।
★মৃত্যুর আবেদনটি রোগীর নিজস্ব স্বাধীন ইচ্ছায় হতে হবে।
★শুধু মানসিক যন্ত্রণা এই আইনের আওতায় পড়বে না।অ্যালঝাইমার্সের মতো নিউরোডিজেনারেটিভ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধা পাবেন না।
আবেদন প্রক্রিয়া
রোগীকেই আবেদন করতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দল ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন পর্যালোচনা করবে। এরপর কমপক্ষে দুই দিনের চিন্তাভাবনার সময় শেষে রোগী সিদ্ধান্ত পুনরায় নিশ্চিত করবেন। অনুমোদন মিললে রোগী নিজের পছন্দমতো সময় ও স্থানে, বাড়ি বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন।
ওষুধ গ্রহণের দিন চিকিৎসক বা নার্স নিশ্চিত করবেন যে রোগী এখনও একই সিদ্ধান্তে অটল আছেন। এই পুরো প্রক্রিয়ার খরচ বহন করবে ফ্রান্সের জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা।
অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি-র সভাপতি জোনাথন ডেনিস বলেন, এই আইন মানুষকে অসহনীয় যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর স্বাধীনতা দেবে। তাঁর মতে, "নতুন কোনো অধিকার সৃষ্টি মানেই কাউকে তা ব্যবহার করতে বাধ্য করা নয়। বরং এটি নিশ্চিত করে যে চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রোগীর ইচ্ছাই সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে।"
অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এই আইন বয়স্ক, অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করতে পারে। ফ্রান্সের উচ্চকক্ষ সেনেট, বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
তবে ফরাসি আইন অনুযায়ী দুই কক্ষের মতভেদ হলে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিলটি সংবিধান পর্যালোচনার জন্য কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধানত নেওয়া হয়েছে৷
যুক্তরাজ্যেও সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক চলছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ সংক্রান্ত একটি বিল ১১ সেপ্টেম্বর আবার সংসদে তোলা হবে। সেখানে প্রস্তাব রয়েছে, যাদের আর ছয় মাসের কম আয়ু রয়েছে, তারা দুই চিকিৎসক ও একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অনুমোদন নিয়ে সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যুর আবেদন করতে পারবেন।
















