ভারতের কিছু জায়গায় আবারও কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ছে৷ অন্ধ্রপ্রদেশে কোভিড-সম্পর্কিত কয়েকটি মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের মতো ভয়াবহ নয়।

কেন বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাকরণ এবং আগের সংক্রমণের ফলে অধিকাংশ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে কোভিড-১৯ ইনফ্লুয়েঞ্জা ও আরএসভি (RSV)-এর মতো অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। চিকিৎসকদের মতে, এখন আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং চিকিৎসা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকের পরামর্শ 

জ্বর, গলা ব্যথা, কাশি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, স্বাদ বা গন্ধ হারিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেলে দ্রুত কোভিড পরীক্ষা করানো উচিত এবং অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত। কোভিড ধরা পড়লে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হবে, পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং নিজের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে হবে। অধিকাংশ মানুষ কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্রাম ও সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তবে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘ সময় উচ্চ জ্বর, বুকে ব্যথা, বিভ্রান্তি বা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।


চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এখনও বেশি কিছু মানুষের। তাঁরা হলেন, প্রবীণ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, 
হৃদরোগী, দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি,
কিডনির রোগী, ক্যানসার আক্রান্ত মানুষ, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল এই সমস্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

সংক্রমণ এড়াতে কী করবেন?

নিয়মিত সাবান ও জল দিয়ে হাত ধুতে হবে অথবা অ্যালকোহলভিত্তিক স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
ভিড়যুক্ত ঘরের ভিতরে বা হাসপাতালে গেলে মাস্ক পরতে হবে। 

বাড়ি ও কর্মস্থলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে জানালা খোলা রাখতে হবে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কোভিড টিকা ও বুস্টার ডোজ সময়মতো নিতে হবে। 

যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের ভ্রমণের পর যদি কারও ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষা করানো উচিত। বর্তমানে সাধারণভাবে উপসর্গ কমে যাওয়া ও শারীরিক অবস্থার উন্নতির ভিত্তিতে ৫ থেকে ৭ দিন আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি

চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট, কোভিড-১৯ আর আগের মতো জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা না হলেও এটি পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। অকারণে বারবার কোভিড পরীক্ষা করানোর পক্ষপাতী নন। উপসর্গের দিকে নজর রাখা, মৃদু সংক্রমণের ক্ষেত্রে বাড়িতে আইসোলেশন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর জল পান এবং পুষ্টিকর খাবার এখনও সুস্থ হয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।


বিঃদ্রঃ এই তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। অসুস্থ হলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।