প্রস্রাবের সঙ্গে সাদা স্রাব বা হোয়াইট ডিসচার্জের সমস্যা অনেক সময় পুরুষদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত মহিলারা এই সমস্যায় বেশি ভুগলেও, পুরুষদের ক্ষেত্রেও এটি দেখা দিতে পারে। যা শরীরের কোনও গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবসময় গুরুতর না হলেও, এর পেছনে বেশ কিছু শারীরিক কারণ থাকতে পারে। যেমন- 

১. এসটিআই বা যৌনবাহিত সংক্রমণঃ সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে একটি হল ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার মতো সংক্রমণ। এই ধরনের সংক্রমণের ফলে মূত্রনালী থেকে সাদা, হলুদ বা ঘোলাটে তরল নির্গত হতে পারে। এর সঙ্গে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. প্রোস্টাটাইটিসঃ প্রোস্ট্যাট গ্রন্থির প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে প্রস্রাবের সঙ্গে সাদা চটচটে তরল নির্গত হতে পারে। প্রোস্টাটাইটিস হলে তলপেটে ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া এবং প্রস্রাবের শেষে সাদা স্রাব বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

৩. ইউটিআই বা মূত্রনালীর সংক্রমণঃ যদিও পুরুষদের ইউটিআই কম হয়, তবে সংক্রমণ হলে প্রস্রাব ঘোলাটে হতে পারে। সংক্রমণের কারণে পুঁজ নির্গত হলে তা সাদা স্রাব বলে ভ্রম হতে পারে।

৪. রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনঃ এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে বীর্য লিঙ্গ দিয়ে বাইরে না বেরিয়ে মূত্রথলিতে চলে যায়। পরবর্তীতে প্রস্রাব করার সময় সেই বীর্য সাদা তরল হিসেবে বেরিয়ে আসে। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? সব সাদা স্রাব ভয়ের কারণ নয়, তবে কয়েকটি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যেমন প্রস্রাব করার সময় তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হলে, প্রস্রাবের সঙ্গে দুর্গন্ধ থাকলে, যদি স্রাবের রঙে পরিবর্তন আসে যেমন রক্ত মেশানো বা সবুজ ভাব, অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলে, ঘনঘন জ্বর বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হলে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের সমস্যা এড়াতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। যেমন-

১. পর্যাপ্ত জল পান: শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে প্রতিদিন প্রচুর জল পান করা জরুরি।

২. সুরক্ষিত যৌন মিলন: সংক্রমণ এড়াতে সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।

৩. পরিচ্ছন্নতা: যৌনাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করানো জরুরি।

পুরুষদের প্রস্রাবে সাদা স্রাব হওয়া কোনও সাধারণ বিষয় নয়। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও সমস্যার সংকেত হতে পারে। তাই লজ্জা বা দ্বিধা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের  পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক জটিল সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।