অধিকাংশ মানুষই মনে করেন ওজন কম থাকা মানেই সুস্থ থাকা। কিন্তু নিউরোলজিস্টদের মতে, শরীরের ওজন বা বিএমআই-এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল 'ওয়েস্ট-টু-হিপ রেশিও' বা কোমর ও নিতম্বের অনুপাত। বিশেষজ্ঞের মতে, পেটের চারপাশে জমা অতিরিক্ত চর্বি বা 'ভিসারাল ফ্যাট' আমাদের আয়ু কমিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে। কেন এটি বিএমআই-এর চেয়ে কার্যকর? আসুন জেনে নেওয়া যাক-

১. ফ্যাটের অবস্থান: বিএমআই কেবল উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত জানায়, কিন্তু চর্বি ফ্যাট শরীরের কোথায় জমে আছে তা বলতে পারে না। পেটের চর্বি সরাসরি লিভার, হার্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে।

২. রোগের ঝুঁকি: কোমরের মাপ বেশি হওয়া মানেই টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। এমনকী মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপরও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা পরবর্তীকালে স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার কারণ হতে পারে।

৩. পেশি বনাম ফ্যাটঃ অনেক সময় দেখা যায় একজন খেলোয়াড়ের ওজন বেশি হওয়ায় বিএমআই অনুযায়ী তাঁকে 'ওভারওয়েট' দেখায়, কিন্তু তাঁর শরীরে চর্বির চেয়ে পেশি বেশি থাকে। কোমরের মাপ এই বিভ্রান্তি দূর করে প্রকৃত স্বাস্থ্যচিত্র তুলে ধরে।

স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘ জীবন পেতে হলে কেবল ওজন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে শরীরের গঠন ঠিক রাখার দিকে মন দিতে হবে। যার জন্য সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কোমরের সবচেয়ে সরু অংশ এবং নিতম্বের সবচেয়ে চওড়া অংশের মাপ নিতে হবে। কোমরের মাপকে নিতম্বের মাপ দিয়ে ভাগ করলেই এই অনুপাত পাওয়া যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ০.৯-এর কম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর কম থাকা স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ।

দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য জিমে গিয়ে কঠোর পরিশ্রমের চেয়েও জরুরি হল জীবনযাত্রার সঠিক পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, চিনিযুক্ত খাবার বর্জন এবং নিয়মিত কোমরের মাপ পরীক্ষা করার মাধ্যমে আপনি অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। সুস্থ হার্ট এবং সচল মস্তিষ্কের জন্য আপনার পেট নয়, বরং পেশি শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।