সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিনই অসংখ্য ভিডিও ভাইরাল হয়। কোনওটি নিছক বিনোদন দেয়, আবার কোনওটি নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। এবার তেমনই এক ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর কীর্তন মেনন-এর একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ২.৩ কোটিরও বেশি মানুষ দেখে ফেলেছেন।

ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায়, সেলুনের চেয়ারে বসে রয়েছেন কীর্তন। মুহূর্তের মধ্যেই নাপিত ট্রিমার দিয়ে তাঁর কোমর ছোঁয়া লম্বা চুল সম্পূর্ণ কেটে ফেলেন। কিন্তু পুরো সময় জুড়েই তাঁর মুখে নেই কোনও ভয়, অস্বস্তি বা দ্বিধার ছাপ। বরং অত্যন্ত শান্তভাবেই তিনি পুরো ঘটনাটি মেনে নিচ্ছেন।

 

তবে ভিডিওর থেকেও বেশি আলোড়ন ফেলেছে এর ক্যাপশন। সেখানে কীর্তন লিখেছেন, "ধরে নিন, মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন।" এই একটি বাক্যই নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।


অনেকের ধারণা, পরিবারের চাপে বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই হয়তো এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি! আবার নেটপাড়ার অন্য একাংশের মত, পুরো ঘটনা না জেনে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। কারও মতে, তিনি হয়তো ক্যানসার রোগীদের জন্য চুল দান করেছেন। আবার অনেকে বলছেন, এটি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য তৈরি একটি কনটেন্ট।

তবে এখনও পর্যন্ত কীর্তন মেনন নিজে কোথাও জানাননি, ঠিক কী কারণে তিনি মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে ভিডিওর আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

 

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হওয়ার পর থেকেই ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই এটি ২ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ভিউ পেয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিডিওটিতে লাইক ও শেয়ার করেছেন। মন্তব্যের ঘরেও দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ তাঁর সাহসের প্রশংসা করছেন, কেউ আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষের নিজেরই থাকা উচিত। একই সঙ্গে বহু নেটিজেন আবেদন জানিয়েছেন, শুধুমাত্র একটি পোস্টের ক্যাপশন দেখে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়।

ভিডিওটির নেপথ্যের প্রকৃত কারণ এখনও অজানা। তাই এটিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া কোনও জল্পনাই এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে সত্যি বলে দাবি করা যায় না। তবে এটুকু স্পষ্ট, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ে, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং পারিবারিক প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই কারণেই ভিডিওটি এখনও নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।