আর একদিন বাদেই রথযাত্রা। আগামী ১৬ জুলাই মাসির বাড়ি পাড়ি দেবেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা।পুরীতে মহাসমারোহে পালিত হবে রথযাত্রা। এই উৎসবের সাত দিন ধরে নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে জগন্নাথদেবকে ৫৬ রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। একইরকম ভোগের ব্যবস্থা থাকে বলরাম, সুভদ্রার জন্যও।

জগন্নাথদেবের নানা ধরনের ভোগের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হল কণিকা ভোগ। ওড়িশার জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদের এই পদ দেখতে অনেকটা মিষ্টি পোলাওয়ের মতো হলেও স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। জেনে নিন এই কণিকা ভোগের সহজ রেসিপি।

উপকরণ

২ কাপ গোবিন্দভোগ বা বাসমতি চাল, আধ কাপ গুড় (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যায়), ৪-৫ টেবিল চামচ ঘি, ১ টুকরো দারচিনি, ৪-৫টি লবঙ্গ, ৪টি ছোট এলাচ, ১টি বড় এলাচ, ৮-১০টি গোলমরিচ, আধ চা চামচ জিরে, এক মুঠো কাজুবাদাম, এক মুঠো কিশমিশ এবং সামান্য নুন।

যেভাবে বানাবেন

প্রথমে চাল ভাল করে ধুয়ে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর জল ঝরিয়ে চালে সামান্য ঘি মিশিয়ে নিন। এরপর একটি কড়াই বা পাত্রে ঘি গরম করুন। ঘি গরম হলে দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জিরে এবং গোলমরিচ দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এতে সুন্দর গন্ধ বের হবে। এবার কাজুবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে সামান্য ভেজে তুলে রাখতে পারেন।

এবার সেই ঘিয়ের মধ্যেই চাল দিয়ে ২-৩ মিনিট হালকা নেড়ে নিন। তারপর প্রয়োজনমতো গরম জল এবং এক চিমটি নুন দিন। ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

চাল প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে গুড় কুচি বা গুড়ের রস দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিন। চাইলে সামান্য দারচিনি গুঁড়োও দিতে পারেন। এরপর ভাজা কাজু ও কিশমিশ মিশিয়ে আরও কয়েক মিনিট কম আঁচে ঢেকে রাখুন। চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে গেলে এবং জল শুকিয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে ৫-১০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন।

এরপর গরম গরম কণিকা ভোগ জগন্নাথদেবকে নিবেদন করুন। চাইলে পরে পরিবারের সকলে মিলে প্রসাদ হিসেবে খেতে পারেন।

কণিকা ভোগের আসল স্বাদ আসে ঘি, গুড় এবং গোটা মশলার সুন্দর মিশ্রণে। এটি একেবারে শুকনো পোলাওয়ের মতো নয়, আবার খুব নরমও নয়।

হালকা মিষ্টি, সুগন্ধি এই ভোগ রথযাত্রার দিন বাড়িতেই সহজে তৈরি করা যায়। অল্প কিছু উপকরণেই তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী পদ উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।