একা অফিস থেকে ফিরছেন, নতুন কোনও শহরে ঘুরতে গিয়েছেন বা রাতে জরুরি কাজে বের হতে হয়েছে-এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে অনেক মহিলাই উদ্বিগ্ন থাকেন। এই সমস্যার সমাধানে এখন প্রযুক্তির সাহায্যে এসেছে সেফটি ম্যাপ। এটি এমন একটি ডিজিটাল ম্যাপ, যা কোনও এলাকার নিরাপত্তা সম্পর্কে আগাম ধারণা দেয়।


সেফটি ম্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় দেখায়। কোথাও যদি আগে ছিনতাই, ইভটিজিং, চুরি, স্টকিং বা অন্য কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেই তথ্য ম্যাপে চিহ্নিত থাকে। ফলে বাইরে বের হওয়ার আগে কোন রাস্তা তুলনামূলক নিরাপদ, আর কোন জায়গা এড়িয়ে চলা উচিত, তা সহজেই বোঝা যায়।


শুধু তাই নয়, অনেক সেফটি ম্যাপে ব্যবহারকারীরা নিজেরাও তথ্য যোগ করতে পারেন। ধরুন, কোনও এলাকায় রাস্তার আলো নেই, নির্জন পরিবেশ বা নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সেই তথ্য অ্যাপে জানালে অন্য ব্যবহারকারীরাও আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন। ফলে একে অপরকে নিরাপদ রাখতে এই ধরনের অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।


অনেক সেফটি ম্যাপে আরও কিছু জরুরি ফিচার থাকে। যেমন পরিবারের সদস্য বা বন্ধুর সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার সুবিধা, এক ট্যাপে এসওএস অ্যালার্ট পাঠানো, জরুরি নম্বরে ফোন করা এবং কাছাকাছি পুলিশ স্টেশন বা নিরাপদ জায়গার অবস্থান দেখার ব্যবস্থা। বিপদের মুহূর্তে এই সুবিধাগুলি দ্রুত সাহায্য পেতে কাজে লাগে।


তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেফটি ম্যাপ যতই কার্যকর হোক না কেন, এটিকে একমাত্র নিরাপত্তার উপায় হিসেবে ভাবা উচিত নয়। বাইরে বের হলে সতর্ক থাকা, মোবাইল ফোন চার্জে রাখা, জরুরি নম্বর সেভ করে রাখা এবং আশপাশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।


প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের সেফটি ম্যাপ মহিলাদের নিরাপদ যাতায়াতে নতুন ভরসা হয়ে উঠছে। সচেতনতার সঙ্গে এই ফিচার ব্যবহার করলে বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এই ধরনের নিরাপত্তামূলক টুল সম্পর্কে জেনে রাখা এবং প্রয়োজন হলে কাজে লাগানো শ্রেয়।