সারাদিন কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরেও যদি সবসময় দুর্বল লাগে, তাহলে সেটি শরীরে আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
আয়রন এমন একটি খনিজ, যা হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। এই হিমোগ্লোবিনই রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। তাই শরীরে আয়রন কমে গেলে ধীরে ধীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
অনেক সময় এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা হয়। অথচ সময়মতো চিকিৎসা না হলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
* সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বল লাগা: আয়রনের ঘাটতির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা। অল্প কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাওয়া, শরীরে এনার্জি না পাওয়া বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া—এসবই আয়রনের অভাবের কারণে হতে পারে। কারণ শরীরের কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না।
* ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া: মুখ, ঠোঁট, মাড়ি বা চোখের নিচের অংশ যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ফ্যাকাশে দেখায়, তাহলে তা হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন ভেবে গুরুত্ব দেন না।
* মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট: হাঁটাহাঁটি, সিঁড়ি ভাঙা বা সামান্য পরিশ্রমেই যদি মাথা ঘোরে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
* চুল বেশি পড়া ও নখ দুর্বল হয়ে যাওয়া: হঠাৎ করে চুল পড়া বেড়ে যাওয়া বা নখ পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
* বরফ, মাটি বা চক খেতে ইচ্ছা হওয়া: শুনতে অদ্ভুত লাগলেও অনেকের বরফ, মাটি বা চক খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে 'পাইকা' বলা হয়। এটি আয়রনের অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে নিয়মিত আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। যেমন পালং শাক, ডাল, ছোলা, রাজমা, সয়াবিন, কিশমিশ, খেজুর, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস ও রেট মিট।পাশাপাশি লেবু, কমলালেবু, আমলকি বা অন্যান্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর আয়রন আরও ভালভাবে শোষণ করতে পারে।
শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে আয়রনের ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করে আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত হওয়ার পরেই ওষুধ খাওয়া নিরাপদ। কারণ প্রয়োজন না থাকলে অতিরিক্ত আয়রন শরীরের ক্ষতিও করতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই শ্রেয়।
















