কফি ডেট ১৫০০ টাকা, ডিনার আর সিনেমা ২০০০, আর যদি বাড়ির লোকের সাথে আলাপ করাতে চান? তবে গুনতে হবে কড়কড়ে ৩০০০ টাকা! কোনো সিনেমার গল্প বা ক্রাইম থ্রিলারের প্লট নয়, এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল এক তরুণীর এমনই এক ‘রেন্ট মি ফর আ ডে’ বা ‘ভাড়ায় সঙ্গী’ খোঁজার রেট চার্ট। দিব্যা নামের ওই তরুণীর এই অভিনব বিজনেস মডেলের পোস্টটি এক্স প্ল্যাটফর্মে আসতেই কার্যত তোলপাড় শুরু হয়েছে নেটদুনিয়ায়।

নলিনী উনাগর নামের এক এক্স ইউজার প্রথম দিব্যার এই ‘মেনু কার্ড’টি শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ আড্ডা থেকে শুরু করে অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপ— সব কিছুরই আলাদা আলাদা দাম বেঁধে দিয়েছেন দিব্যা।


কী আছে সেই ভাইরাল রেট চার্টে?
দিব্যার অফারের তালিকাটি বেশ লম্বা এবং সুপরিকল্পিত:

কফি ডেট: ১,৫০০ টাকা

ডিনার ও মুভি: ২,০০০ টাকা

পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ: ৩,০০০ টাকা

ইভেন্ট পার্টনার: ৩,৫০০ টাকা 

বাইক ডেট: ৪,০০০ টাকা

শপিং স্প্রি (কেনাকাটা): ৪,৫০০ টাকা

অ্যাডভেঞ্চার ডে: ৫,০০০ টাকা

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট সহ ডেট: ৬,০০০ টাকা

২ দিনের উইকেন্ড গেটঅ্যাওয়ে: ১০,০০০ টাকা


এছাড়াও ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজড প্ল্যানের সুবিধাও রাখছেন তিনি।

দিল্লি চলো! ‘রেন্টাল জিএফ’ হয়ে দিনে আয় ৬-৭ হাজার?
দিব্যার এই পোস্টের রেশ কাটতে না কাটতেই ‘মিক্কু’ নামের অন্য এক এক্স ইউজার দিল্লির ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ ট্রেন্ডের ওপর আরও এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি দাবি করেন, দিল্লির বহু তরুণী এখন এই ধরণের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেদার টাকা আয় করছেন।

তার দেওয়া একটি ভিডিওতে এক তরুণী দেখিয়েছেন কীভাবে ‘KoPartner.in’ নামক একটি ভারতীয় রেন্টাল কম্প্যানিয়ন প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল বানিয়ে ছেলেরা তাঁদের শপিং, সিনেমা বা ট্র্যাভেলিংয়ের জন্য ভাড়া করছে। ওই তরুণী জানান, স্রেফ ২ ঘণ্টা কফিশপে আড্ডা দেওয়া এবং শপিং করার জন্য ক্লায়েন্ট তাঁকে ২,০০০ টাকা ক্যাশ দিয়েছেন, সাথে ফ্রিতে শপিং ও খাওয়া-দাওয়া তো আছেই! দিনে ৩-৪টি বুকিং পেলেই অনায়াসে দৈনিক ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পকেটে পুরছেন তারা।


এই পোস্ট দুটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা স্পষ্ট দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। একদিকে যেখানে আধুনিক যুগের একাকীত্ব এবং গিগ ইকোনমি নিয়ে চর্চা চলছে, অন্যদিকে তীব্র সমালোচনা ও সুরক্ষার প্রশ্নও উঠছে।

কৌতুক এবং কটাক্ষের সুরে এক ইউজার লিখেছেন, "মাসে ২ লাখ টাকা আয়! তাহলে মেয়েরা আর চাকরি করবে কেন? আর এই টাকা দিচ্ছে কারা? কিছু লোভী এবং অন্য মানসিকতার লোক, যাদের গার্লফ্রেন্ড বানানোর ক্ষমতা নেই!" অন্য একজন বেশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লিখেছেন, "ছেলেরা আসলে এই সমাজ ব্যবস্থার পাপোশ হয়ে যাচ্ছে। ভালই করছে মেয়েরা, এদের এভাবেই ট্রিট করা উচিত।"

তবে অনেকেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তিত। এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, "মানুষ আজ এতটাই একাকী যে এখন এসবই দেখতে হবে।" আবার নারী সুরক্ষার দিকটি মনে করিয়ে দিয়ে একজন লিখেছেন, "ব্যাপারটা অন্যরকম হলেও বাউন্ডারি আর সেফটি ক্লিয়ার থাকা দরকার। আর্থিক স্বাধীনতা ভাল, কিন্তু এক্সপ্লয়টেশন (শোষণ) থেকে বাঁচা জরুরি।" এর মাঝেই অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনে হয়তো এই রেট চার্টগুলোতে ২০-৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আরও কোনও 'স্পেশাল সার্ভিস'-এর কলামও যুক্ত হতে পারে।

আধুনিক ব্যস্ত জীবন আর একাকীত্ব কি মানুষকে সত্যিই ইমোশনের কেনাবেচার দিকে ঠেলে দিচ্ছে? দিব্যা বা দিল্লির এই তরুণীদের ‘বিজনেস প্ল্যান’ সেই বড়সড় সামাজিক প্রশ্নটাই তুলে ধরল।