আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ চা খাওয়া শেষ হলেই টি-ব্যাগের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। সচরাচর একবার ব্যবহার করা টি-ব্যাগ ফেলেই দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবহৃত টি-ব্যাগ কতরকম কাজে লাগতে পারে জানেন?
দাড়ি কাটতে গিয়ে অনেকসময় গাল কেটে-ছড়ে যায়। এক্ষেত্রে কোনও কৃত্রিম অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার না করে ব্যবহৃত টি-ব্যাগ কাজে লাগানো যেতে পারে। ফ্রিজে রাখা টি-ব্যাগ কেটে যাওয়া চামড়ার উপর চেপে ধরে রাখলে রক্ত পড়া বন্ধ হবে। জ্বালাভাবও কমবে। চায়ে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এক্ষেত্রে অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে।
ব্রণর সমস্যায় জেরবার হতে হয় বয়ঃসন্ধিতে পা রাখা ছেলেমেয়েদের। নানা ধরনের ক্রিম থেকে শুরু করে ঘরোয়া হাজারো টোটকাতেও সমস্যার সমাধান মেলে না। ব্রণ তাড়াতেও টি-ব্যাগ খুব কাজে লাগতে পারে। তবে ত্বক ভাল করে পরিষ্কার করে তবেই ব্রণর উপর টি-ব্যাগ ঘষতে হবে। চায়ের উপাদানেই সারবে ব্রণ। এক্ষেত্রে গ্রিন টি-ব্যাগ হওয়াই শ্রেয়। শুকনো ত্বককে সতেজ করতে ব্যবহৃত টি ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যাগগুলিকে ঠান্ডা করে নিন। তারপর একটি স্প্রে বা স্কুইজ বোতলে ঢেলে দিন। বোতল ভরে জল ঢেলে রাখুন। সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এটি আপনার ত্বকে স্প্রে করুন বা আপনি একটি তুলো প্যাড দিয়েও মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শুষ্ক ত্বককে রিহাইড্রেট করার জন্য উপকারী।
টি-ব্যাগ যে কোনও রকম গন্ধ তাড়াতে পারে। রান্নাঘরের মাছ বা রসুনের কড়া গন্ধ তাড়াতে টি-ব্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া রেফ্রিজারেটরের দুর্গন্ধ কাটাতেও ব্যবহার করা টি-ব্যাগ রাখলে কাজ হয়। ঘরে সিগারেটের গন্ধ কাটাতে অ্যাশট্রেতেও টি-ব্যাগ রেখে দিন। দু’একফোঁটা পছন্দের সুগন্ধি টি-ব্যাগে দিলে চমৎকার রুম ফ্রেশনারের কাজ করে।
টি ব্যাগ দিয়ে বাসনপত্র বেশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়। বিশেষত সাবানে যাঁদের অ্যালার্জি আছে তারা হাতে সাবান না লাগিয়ে, টি-ব্যাগ দিয়েই কাজ চালাতে পারেন। কাঁচের গ্লাসের দাগ মুছে ফেলতেও এর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু যাদের বাগানের শখ আছে, তাদের কাছে টি-ব্যাগ আদর্শ। গাছের সার হিসেবে মাটি তৈরিতে টি-ব্যাগ ব্যবহার করেন অনেকেই। বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকেও গাছকে বাঁচায় এই টি-ব্যাগ।
