সৌন্দর্য বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যা অনেককেই চমকে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিখুঁত 'আওয়ারগ্লাস ফিগার' বা কাঙ্ক্ষিত শারীরিক গড়ন পেতে একদল মহিলা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে সংগৃহীত ফ্যাট নিজেদের শরীরে ইনজেক্ট করছেন। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় 'ক্যাডাভেরিক ফ্যাট গ্রাফটিং'।
কী এই পদ্ধতি? সাধারণত কসমেটিক সার্জারিতে 'ফ্যাট গ্রাফটিং' পদ্ধতিতে ব্যক্তির নিজের শরীরের অন্য অংশ যেমন পেট বা উরু থেকে চর্বি নিয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে বসানো হয়। কিন্তু যাদের শরীরে নিজস্ব অতিরিক্ত মেদ নেই, তারা এখন বেছে নিচ্ছেন এই নতুন পদ্ধতি। এখানে চিকিৎসকরা মৃত ব্যক্তিদের শরীর থেকে সংরক্ষিত বা দান করা চর্বি সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করেন এবং তা গ্রাহকের শরীরে প্রয়োগ করেন।
কেন এই প্রবণতা বাড়ছে? হলিউড তারকা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মতো কার্ভি বা সুঠাম শরীর পাওয়ার নেশায় অনেকেই এই ঝুঁকি নিচ্ছেন। বিশেষ করে নিতম্ব ও স্তনের আকার বৃদ্ধি করে একটি আকর্ষণীয় শারীরিক কাঠামো তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য। যাদের শরীরে নিজস্ব ফ্যাট কম, তাদের কাছে এটি একটি সহজ যদিও বিতর্কিত বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে সংগৃহীত কোষ ব্যবহারের ফলে বড় ধরনের ইনফেকশন বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। শরীর বাইরের কোনও কোষ বা টিস্যুকে সহজে গ্রহণ করতে চায় না। ফলে অ্যালার্জি বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও এই পদ্ধতিটি এখনও পরীক্ষিত নয়। দীর্ঘ মেয়াদে এই চর্বি শরীরে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। মৃত মানুষের চর্বি দিয়ে প্রসাধন বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই বিষয়টি তীব্র নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি কি কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে মৃতদেহকেও পণ্যে পরিণত করবে? চিকিৎসকদের মতে, কেবল সস্তা বা সহজ উপায়ে সৌন্দর্য পেতে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা উচিত নয়।
সুস্থ জীবনযাপন এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পাওয়া স্বাভাবিক সৌন্দর্যই শ্রেষ্ঠ। কৃত্রিম উপায়ে, বিশেষ করে মৃতদেহের চর্বি ব্যবহারের মতো ভয়ংকর পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। সচেতনতাই পারে এমন অদ্ভুত ও বিপজ্জনক প্রবণতা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে।















