আমরা অনেকেই মনে করি সুস্থ থাকতে হলে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বা শরীরচর্চা করাই যথেষ্ট। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন একটি ছোট অভ্যাস আছে যা নিয়মিত মানলে শরীর ভাল থাকে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং আয়ুও বাড়তে পারে। আশ্চর্যের বিষয় হল, বেশিরভাগ মানুষই এই গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসটি অবহেলা করেন।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই অভ্যাসটি হল নিয়মিত 'ফ্লসিং' করা। অর্থাৎ দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা ও ময়লা পরিষ্কার করা। শুধু ব্রাশ করলেই দাঁতের সব অংশ পরিষ্কার হয় না। দাঁতের মাঝখানে অনেক সময় খাবার আটকে থাকে, যা থেকে ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়।

এই ব্যাকটেরিয়া শুধু মুখের ক্ষতিই করে না, শরীরের অন্য অংশেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁত ও মাড়িতে দীর্ঘদিন সংক্রমণ বা প্রদাহ থাকলে সেই জীবাণু রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এমনকী ধমনিতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

চিকিৎসকদের কথায়, অনেক মানুষ মুখের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেন না। দাঁতে ব্যথা না হলে বা বড় সমস্যা না দেখা দিলে দন্তচিকিৎসকের কাছেও যান না। কিন্তু মাড়ি ফুলে যাওয়া, রক্ত পড়া বা মুখে দুর্গন্ধ-এগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এগুলি শরীরের ভিতরে প্রদাহ বাড়ার লক্ষণ হতে পারে।

ফ্লসিং করলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক ও ময়লা সহজে পরিষ্কার হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া কম জমে এবং মাড়ি সুস্থ থাকে। প্রতিদিন অন্তত একবার ফ্লসিং করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ফ্লসিং করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া দিনে দু’বার দাঁত ব্রাশ করা, বেশি মিষ্টি খাবার কম খাওয়া এবং নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করানোও জরুরি। শুধু মুখের স্বাস্থ্য নয়, এগুলো পুরো শরীর সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ভাল ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, মানসিক চাপ কম রাখা এবং সঠিক খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাসও দীর্ঘ জীবন পেতে সাহায্য করে। তবে ছোট ছোট অভ্যাসের গুরুত্ব অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে সবসময় বড় পরিবর্তনের দরকার হয় না। প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখতে পারে। তাই দাঁতের যত্নকে অবহেলা না করে এখন থেকেই সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।