জাপানের বিখ্যাত মিয়াজাকি আম এখন চর্চার কেন্দ্রে। কারণ ওড়িশার মালকানগিরি জেলার এক কৃষক সফলভাবে এই বিরল ও খুবই দামি আম চাষ করেছেন।
2
10
বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমগুলির মধ্যে মিয়াজাকি অন্যতম। এই আমের দাম এতটাই বেশি যে অনেক সময় তা রুপোর দামের থেকেও বেশি হয়ে যায়।
3
10
জানা গিয়েছে, ভাল মানের মিয়াজাকি আম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে।
4
10
মিয়াজাকি আম মূলত জাপানের মিয়াজাকি অঞ্চলে চাষ হয়। সেখানকার আবহাওয়া ও বিশেষ পরিচর্যার কারণে এই আমের স্বাদ ও গুণমান আলাদা। এই আম দেখতে সাধারণ আমের মতো নয়। এর খোসা গাঢ় লাল বা লালচে বেগুনি রঙের হয়, যা একে খুব আকর্ষণীয় করে তোলে।
5
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আম খুবই মিষ্টি এবং রসালো। এতে চিনির পরিমাণ সাধারণ আমের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি এতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ও ফলিক অ্যাসিডও ভাল পরিমাণে থাকে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমের চাহিদা এত বেশি।
6
10
তবে এই আম চাষ করা সহজ কাজ নয়। গাছের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। ঠিক পরিমাণে জল, পর্যাপ্ত রোদ এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়। অনেক সময় প্রতিটি আমকে আলাদা জালের ব্যাগে ঢেকে রাখা হয়, যাতে পোকামাকড় বা আবহাওয়ার কারণে ক্ষতি না হয়। ফলে এই আম চাষে খরচও অনেক বেশি।
7
10
ওড়িশার ওই কৃষক জানিয়েছেন, নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই আম চাষ শুরু করেন। প্রথমদিকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু ধৈর্য ও পরিশ্রমের ফলেই তিনি সফল হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই চারদিকে আলোচনা শুরু হয়েছে।
8
10
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এই আম বিক্রি করা। সাধারণ বাজারে এত দাম দিয়ে এই আম কেনার মানুষ খুব কম। মূলত বড় হোটেল, ধনী ক্রেতা বা বিদেশি বাজারেই এই আমের চাহিদা বেশি। তাই কৃষকদের জন্য সঠিক ক্রেতা খুঁজে পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।
9
10
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সরকার ও কৃষি দপ্তরের তরফে সঠিক সহায়তা মেলে, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতেও এই ধরনের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফলের চাষ বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের আয়ও অনেক বাড়বে।
10
10
মিয়াজাকি আমের এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ও নতুন চিন্তাভাবনা থাকলে ভারতীয় কৃষকরাও আন্তর্জাতিক মানের ফল উৎপাদন করতে পারেন।