শীতের মরশুম শেষ হলেই বেশিরভাগ পরিবারের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় কম্বল, লেপ বা ভারী ব্ল্যাঙ্কেট পরিষ্কার করা। অনেকেই মনে করেন, এসব ভারী জিনিস ধুতে গেলে ড্রাই ক্লিনিং ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ঘরে ওয়াশিং মেশিনেই খুব সহজে ধুয়ে নেওয়া যায় কম্বল। তাতে যেমন টাকা বাঁচবে, তেমনই ঝক্কিও পোহাতে হবে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমেই দেখতে হবে কম্বলের লেবেল বা ট্যাগ। সেখানে সাধারণত লেখা থাকে মেশিনে ধোওয়া যাবে কিনা, কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় ধোওয়া উচিত এবং ড্রায়ারে দেওয়া যাবে কিনা। উলের কম্বল বা ডেলিকেট ফ্যাব্রিক হলে অবশ্যই সাবধানতা জরুরি।
ওয়াশিং মেশিনে কম্বল ধোওয়ার আগে ভাল করে ঝেড়ে নিন, যাতে ধুলো-ময়লা বেরিয়ে যায়। এরপর কম্বলটি ভাঁজ করে মেশিনে ঢোকান। খেয়াল রাখবেন, একসঙ্গে একটির বেশি ভারী কম্বল না দেওয়াই ভাল। এতে মেশিনের ওপর চাপ পড়ে না এবং পরিষ্কারও ভাল হয়।
ডিটারজেন্টের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। খুব বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে কম্বলে সাবানের আস্তরণ থেকে যেতে পারে। তাই লিকুইড ডিটারজেন্ট বা মাইল্ড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করাই শ্রেয়। উলের কম্বলের জন্য আলাদা উল-ওয়াশ ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
ওয়াশিং মোড হিসেবে বেছে নিন ‘জেন্টল’ বা ‘ডেলিকেট’ সাইকেল। জল যেন খুব গরম না হয়। হালকা গরম বা ঠান্ডা জলই যথেষ্ট। স্পিন স্পিড কম রাখলে কম্বলের ফাইবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
ধোওয়া শেষ হলে কম্বল ভাল করে শুকানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি রোদে না দিয়ে ছায়াযুক্ত, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় শুকান। ড্রায়ার ব্যবহার করলে লো হিট সেটিং বেছে নিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে তবেই ভাঁজ করে রাখুন, নাহলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ধরতে পারে।
এই সহজ পদ্ধতিগুলি মেনে চললে বারবার ড্রাই ক্লিনিংয়ের খরচ থেকে স্বস্তি মিলবে। বাড়িতেই সহজে পরিষ্কার করে নিতে পারবেন দামি কম্বল।
