আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি১২ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে, স্নায়ুকে সুস্থ রাখে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেক মানুষের শরীরে অজান্তেই ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দেখা দেয়।

প্রথমদিকে সমস্যা খুব একটা বোঝা না গেলেও, ধীরে ধীরে শরীর বিভিন্নভাবে সতর্ক সংকেত দিতে শুরু করে। তাই এই লক্ষণগুলোকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির ৬টি লক্ষণ জেনে নিন-

১. সবসময় ক্লান্ত ও দুর্বল লাগা: পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, কাজে মন না বসে বা শরীরে শক্তি না থাকে, তাহলে এটি ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এই ভিটামিনের অভাবে শরীরে পর্যাপ্ত সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় না। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন কম পৌঁছায় এবং দুর্বল লাগে।

২. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব: হাত বা পায়ে বারবার ঝিনঝিনি ধরা, অবশ লাগা বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হলে তা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ভিটামিন বি১২-এর অভাব দীর্ঘদিন থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

৩. মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্ট: হাঁটতে গিয়ে মাথা ঘোরা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া বা সামান্য কাজেই শ্বাসকষ্ট হলে তা রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া: অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়ার কারণেই সব ভুলে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণেও মনোযোগ কমে যেতে পারে, বারবার জিনিস ভুলে যাওয়া বা বিভ্রান্ত লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।

৫. জিভ লাল হয়ে যাওয়া বা মুখে ঘা: জিভে জ্বালাপোড়া, লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা মুখে বারবার ঘা হওয়াও ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় খাওয়ার সময়ও অস্বস্তি হয়।

৬. ত্বক ফ্যাকাশে বা হলদেটে দেখানো: রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে গেলে মুখ ও ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়। ফলে ত্বক ফ্যাকাশে বা হালকা হলদেটে দেখাতে পারে।

কোন খাবারে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন বি১২ থাকে? ভিটামিন বি১২ মূলত প্রাণিজ খাবারে বেশি পাওয়া যায়। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখতে পারেন-মাছ, বিশেষ করে স্যামন, সার্ডিন ও টুনা, ডিম, দুধ, দই ও পনির, মুরগির মাংস, রেট মিট, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ, যাঁরা নিরামিষভোজী, তাঁদের ক্ষেত্রে বি১২-এর ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে বি১২-সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল, ফোর্টিফায়েড সয়া বা ওটসের দুধ এবং প্রয়োজন হলে বি১২ সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? বয়স্ক মানুষ, সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী, যাঁদের পেট বা অন্ত্রের কিছু রোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন অ্যাসিড কমানোর ওষুধ খান বা ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁদের শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা অন্য কোনও লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকেরu পরামর্শ নিন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা জানা যায়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক খাবারে পরিবর্তন, ওষুধ বা ইনজেকশনের পরামর্শ দিতে পারেন।

মনে রাখবেন, শুধু সাপ্লিমেন্ট খেলেই হবে না। সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।