দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার। পুরনো অ্যানালগ বা ডিজিটাল মিটারের পরিবর্তে এখন অনেক বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বসানো হচ্ছে এই নতুন প্রজন্মের স্মার্ট মিটার।
2
11
এর ফলে মিটার রিডিং নিতে আলাদা করে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না, আবার গ্রাহকরাও মোবাইল ফোনেই নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখতে পারেন।
3
11
কিন্তু এই স্মার্ট মিটার আসলে কীভাবে কাজ করে? কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি বিদ্যুতের ব্যবহার মাপে এবং তথ্য বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে পৌঁছে দেয়? চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
4
11
স্মার্ট মিটার মূলত একটি ডিজিটাল বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র, যা রিয়েল-টাইমে বিদ্যুতের ব্যবহার পরিমাপ করে সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। এটি শুধু বিদ্যুতের ইউনিট গণনা করে না, বরং নির্দিষ্ট সময় অন্তর ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানও করতে পারে।
5
11
স্মার্ট মিটারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ডিজিটাল সেন্সর। এই সেন্সর বাড়িতে প্রবাহিত ভোল্টেজ ও কারেন্ট নিয়মিত পরিমাপ করে। এরপর উন্নত ইলেকট্রনিক সার্কিট সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, তার সঠিক হিসাব তৈরি করে। ফলে মিটার রিডিংয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
6
11
এরপর আসে কমিউনিকেশন মডিউল, যা স্মার্ট মিটারের সবচেয়ে আধুনিক বৈশিষ্ট্য। এই মডিউল সিম-ভিত্তিক সেলুলার নেটওয়ার্ক, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অথবা অন্যান্য ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে মিটারের তথ্য সরাসরি বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। ফলে আলাদা করে কেউ বাড়িতে এসে মিটার রিডিং সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয় না।
7
11
স্মার্ট মিটারের সঙ্গে থাকে একটি নিরাপদ ডেটা গেটওয়ে, যা গ্রাহক ও বিদ্যুৎ সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত রাখে। এর ফলে গ্রাহকের তথ্য নিরাপদ থাকে এবং অননুমোদিত কেউ সহজে সেই তথ্য পরিবর্তন করতে পারে না।
8
11
এই মিটার নির্দিষ্ট সময় অন্তর—সাধারণত প্রতি ১৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা অন্তর—বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠায়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় অটোমেটেড মিটার রিডিং বা অ্যাডভান্সড মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রযুক্তি।
9
11
স্মার্ট মিটারের আরেকটি বড় সুবিধা হল দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। অর্থাৎ এটি শুধু তথ্য পাঠায় না, বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভার থেকেও বিভিন্ন নির্দেশ গ্রহণ করতে পারে। প্রয়োজনে সফটওয়্যার আপডেট, ট্যারিফ পরিবর্তন বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত নির্দেশ দূর থেকেই মিটারে পাঠানো সম্ভব হয়।
10
11
গ্রাহকদের জন্যও রয়েছে বাড়তি সুবিধা। স্মার্ট মিটারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে যে কোনও সময় নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহার, অবশিষ্ট ব্যালেন্স, দৈনিক বা মাসিক খরচ এবং বিলের তথ্য দেখা যায়। এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর আরও ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো যায়।
11
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট মিটার শুধু বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকেই সহজ করে না, বরং বিদ্যুৎ চুরি রোধ, সঠিক বিলিং, দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করে তুলতে স্মার্ট মিটারই হতে চলেছে অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি।